হামাস-ইসরায়েল সংঘাতের তিন মাস পেরিয়েছে গতকাল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হয় সংঘাত। সেই থেকে চলমান যুদ্ধে হতাহত হয়েছে হাজারো মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ বাসিন্দা। এমন অবস্থায় গাজা উপত্যকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। খবর আল জাজিরা ও রয়টার্স।

তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী উপত্যকার বেসামরিক নাগরিকরা। ইসরায়েলি নির্বিচার হামলায় গাজার বেশির ভাগ এলাকা পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকটে দেখা দিয়েছে দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগবালাই। এতে উপত্যকাটিতে মানবিক সংকট আরো গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা জাতিসংঘের। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের ত্রাণ সহায়তাবিষয়ক প্রধান মার্টিন গ্রিফিথস বলেছেন, ‘গাজা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।’

দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থার মধ্যে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিলও ‌(ইউনিসেফ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংঘাত, অপুষ্টি ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি গাজায় একটি প্রাণঘাতী চক্র সৃষ্টি করেছে, যা উপত্যকার ১১ লাখের বেশি শিশুকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

উপত্যকাটিতে গত শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় ১২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৩১৮ জন। সংঘাতে এ পর্যন্ত গাজায় ২২ হাজার ৪৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছে ৫৮ হাজার ১৬৬ জন। আর নিখোঁজ প্রায় সাত হাজার। হতাহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।

এদিকে চলমান যুদ্ধাবস্থায় নিজ দেশেই সমর্থন হারাতে বসেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে দেশটির নাগরিকরা। বিক্ষোভকারীরা হামাসের হাতে আটকদের মুক্তি এবং গাজায় যুদ্ধ বন্ধেরও দাবি জানান। শনিবার তেল আবিব ও জেরুজালেমে এসব বিক্ষোভ দেখা গেছে। এ সময় সরকারকে উদ্দেশ্য করে ‘লজ্জা, লজ্জা’ স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া গত ৭ অক্টোবরের ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার কর্মকর্তাদের দায়ী করেন তারা। একই দিন জেরুজালেমে অবস্থিত ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের বাড়ির সামনেও জড়ো হয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে গাজা ইস্যুতে শনিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। একই দিন ইস্তানবুলে আরো কয়েকজন তুর্কি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

এরদোগানের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেন, ‘‌গাজার সংঘাত, জিম্মিদের মুক্তি, মানবিক সহায়তা সম্প্রসারণ এবং বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক শান্তির ওপর জোর দিয়েছেন ব্লিঙ্কেন, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি হিসেবে কাজ করবে।’ ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন শাসন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও গাজা পুনর্গঠনে তুরস্ক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও জানান ম্যাথিউ মিলার।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে মার্কিন কূটনীতিক তুরস্ক সফরে গেলে তার সঙ্গে দেখা করেননি এরদোগান। কারণ হিসেবে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর সমর্থনকে উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে হামলা চালায়। ইসরায়েল সরকারের হিসাব অনুসারে, ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ১৪০ জন নিহত হয়েছে। জবাবে একই দিন গাজায় নির্বিচার হামলা শুরু করে ইসরায়েল।