হামাসের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েলের সাহায্যে দ্রুত এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। উড়োজাহাজে করে পাঠিয়েছে অস্ত্র ও ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা রণতরীকে এনে রেখেছে উপকূলের কাছাকাছি। এছাড়া সমর্থন জানাতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন উড়ে যান তেল আবিবে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে, দুই দেশের সামরিক সখ্য কয়েক দশকের। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সামরিক সহায়তা পেয়েছে ইসরায়েল।

মার্কিন কংগ্রেসের নীতি-নির্ধারণ বিষয়ে সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য থেকে জানা যায়, আজ পর্যন্ত ইসরায়েলকে দ্বিপাক্ষিক সহায়তা ও সামরিক অর্থায়ন বাবদ ১৫ হাজার ৮০০ কোটি ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি বছর মার্কিন সামরিক অর্থায়নে ইসরায়েলের জন্য বরাদ্দ ৩৮০ কোটি ডলার। যা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় স্বাক্ষরিত একটি ১০ বছর মেয়াদী চুক্তির অংশ। এ অনুসারে, ২০১৯ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলকে তিন হাজার ৮০০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ওয়াশিংটন।

এদিকে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জো বাইডেন প্রশাসন ও মার্কিন কংগ্রেস ইউক্রেনের জন্য সাড়ে সাত হাজার কোটি ডলারেরও বেশি সহায়তা দিয়েছে। জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান কিয়েল ইনস্টিটিউট ফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি অনুসারে এ অর্থের মাঝে মানবিক, আর্থিক ও সামরিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত। যার প্রায় ৬০ শতাংশ সামরিক-সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে অস্ত্র ও নিরাপত্তা সহায়তা।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) ওভাল অফিসে দেয়া ভাষণে ইসরায়েল ও ইউক্রেনে আরো সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেন জো বাইডেন।

তিনি বলেন, কংগ্রেসের কাছে একটি জরুরি তহবিলের অনুরোধ পাঠাবেন যা আগামী বছরের জন্য আনুমানিক ১০ হাজার কোটি ডলার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মানবিক সহায়তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ইউক্রেন, ইসরায়েল, তাইওয়ানের জন্য অর্থের প্রস্তাবটি আজ শুক্রবার উত্থাপন করা হবে।

বাইডেন বলেন, ‘আমেরিকার নিরাপত্তার বিবেচনায়, এটি একটি স্মার্ট বিনিয়োগ যার লভ্যাংশ ভোগ করবে আগামী প্রজন্ম।’

কয়েক দশকের মধ্যে ভয়াবহ এ সংঘাতের শুরু গত ৭ অক্টোবর হামাসের অতর্কিত হামলা থেকে। এতে এক হাজার ৪০০ ইসরায়েলি নিহত হন। অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন তিন হাজার ৭০০ এর বেশি ফিলিস্তিন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।