নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৩৮৪ জন। তাদের মধ্যে ৭৭৭ জন বিদেশী নাগরিক। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নেপালে ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশী। অন্যদিকে চীনের তিব্বত অংশে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৫৮ জন, যাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশী নাগরিক। দুই দেশের হিসাবে মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮৪।

নেপালে নিখোঁজ বিদেশীদের মধ্যে ভারতের নাগরিক ১৭৮ জন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, ইউক্রেনের ৫৩, মালয়েশিয়ার ৫১, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫, যুক্তরাজ্যের ৩৩ ও কানাডার ২৫ নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশীদের বড় অংশ ট্রেকিং, পর্যটন কিংবা ধর্মীয় তীর্থযাত্রার জন্য পার্বত্য এলাকাটিতে অবস্থান করছিলেন।

বুধবার হিমবাহের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর বরফ, পানি, শিলা ও কাদার প্রবল স্রোত পাহাড়ি উপত্যকার দিকে নেমে আসে। এতে নেপালের রসুয়াসহ কয়েকটি জেলা এবং তিব্বতের গিরং কাউন্টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার তোড়ে পুরো গ্রাম, ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, যানবাহন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ভেসে গেছে। কাদা ও ধ্বংসাবশেষে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় স্থলপথে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

দুর্যোগের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর চীনের জরুরি উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত গিরং স্থলবন্দরে পৌঁছেছে। প্রথম দফায় ১৪১ উদ্ধারকর্মীর পাশাপাশি উচ্চ পার্বত্য এলাকায় পরিচালনার উপযোগী একটি এমআই-১৭১ হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। গিরং বন্দর দিয়ে নেপাল ও চীনের মোট বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিচালিত হয়। তবে বন্যায় বন্দরের সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপালে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তবে বন্যার পানি এবং নিরাপদ অবতরণস্থলের অভাবে কয়েকটি এলাকায় হেলিকপ্টার নামানো যাচ্ছে না। ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবিক সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে আগামী তিন দিন আক্রান্ত এলাকায় আরো বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধসে পড়া মাটি ও পাথর নদীর প্রবাহ আটকে অস্থিতিশীল প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করেছে। সেগুলো ভেঙে গেলে নতুন করে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিতে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, দুর্যোগটির কারণ ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধস ও তার পরবর্তী ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ। ঘটনাটি এত শক্তিশালী ছিল যে প্রাথমিকভাবে একে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য ও স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে হিমবাহ ধসের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।