ফ্লাইট সংকট তীব্র হওয়ায় দুবাই থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিতে কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে। সংকট-পরিস্থিতিতে পরিষেবা দেয়া বীমা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, অঞ্চলটিতে প্রাইভেট জেট ও পরিবহন ভাড়া খরচ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। খবর এফটি।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও পাল্টা জবাবের পঞ্চম দিনে দুবাই থেকে বন্ধ থাকা কিছু ফ্লাইট চালু হয়েছে। তবে ক্রমবর্ধমান হারে শহরটি ছাড়তে চাইছেন বাসিন্দা ও কর্মীরা। এতে ফ্লাইট চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে।

একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই শিশুসহ একটি পরিবারকে সরিয়ে নিতে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হয়েছে। বিশেষ করে যারা প্রাইভেট জেট ব্যবহার করেছেন তাদের চড়া অংকে ভাড়া দিতে হচ্ছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত রোববারের পর থেকে অঞ্চলটিতে চার্টার উড়োজাহাজের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

অন্যদিকে সড়ক পথে দুবাই থেকে ওমানের মাস্কাট বা সৌদি আরবের রিয়াদে যাওয়ার খরচও কয়েকশ ডলার থেকে বেড়ে কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এ দুই শহরই এখন দুবাই ছাড়তে ইচ্ছুকদের প্রধান গন্তব্য।

এক বীমা নির্বাহী বলেন, ‘ট্যাক্সি ভাড়া ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত দেখেছি। বড় সমস্যা হলো, বাণিজ্যিক উপায়ে এলাকা ছাড়তে পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। কিন্তু এখন বাণিজ্যিক উপায় খুবই সীমিত।’

অঞ্চলটির অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের রিমোট ওয়ার্ক করতে বললেও বাসিন্দা, পর্যটক ও প্রবাসীদের একটি বড় অংশ দুবাই ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কারণ সংঘাত থামার লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।

ধনী গ্রাহকদের নিয়ে কাজ করে ট্রাভেল এজেন্সি গ্লোব৭। সংস্থার প্রধান দারিয়া গুরিস্ত্রিম্বা বলেন, ‘মঙ্গলবারের আগে অনেকেই শান্ত ছিলেন, ভাবছিলেন যাবেন না। এখন তারা বুঝেছেন, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে না। তাই অনেকে ওমান যাচ্ছেন কিংবা দেশ ছাড়ছেন।’

আরেক চার্টার সংস্থা এন্টারজেটের প্রতিষ্ঠাতা চার্লস রবিনসন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পোষা প্রাণীসহ উড়োজাহাজের বুকিং আবেদন অনেক বেড়েছে। ‘পুরোপুরি অঞ্চলটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পরিবারগুলো। তারা পোষা প্রাণী ফেলে যেতে চান না, আর বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নেয়াও কঠিন।’

দুবাই ও আবুধাবিতে কিছু ফ্লাইট চালু হয়েছে, তবুও চাহিদার তুলনায় এ পরিষেবা সীমিত। এমিরেটস, ফ্লাইদুবাই ও ইতিহাদ কিছু ফ্লাইট চালালেও নিয়মিত পরিষেবা স্থগিত রয়েছে। কাতারের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট বন্ধ আছে। ফলে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ নিজ নাগরিকদের ফেরাতে বিশেষ ফ্লাইট চালাচ্ছে। এয়ার ফ্রান্স ও কেএলএম মঙ্গলবার মাস্কাট থেকে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। লুৎহানসা আজ রাতে মাস্কাট থেকে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে, আর ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বৃহস্পতিবার একটি ফ্লাইটের পরিকল্পনা করেছে।

ভার্জিন আটলান্টিক মঙ্গলবার ইউরোপের প্রথম এয়ারলাইন হিসেবে দুবাইয়ে নিয়মিত ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে। তাদের একটি ফ্লাইট দুবাই ও আরেকটি রিয়াদে যায়, উভয়টিই যাত্রীতে পূর্ণ ছিল।