বিজয় না আসা পর্যন্ত হামাসের বিরুদ্ধে
ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-সহ কোনো পক্ষই তাদের
থামাতে পারবে না। গাজায় হামলার শততম দিন উপলক্ষে গতকাল শনিবার (১৩ জানুয়ারি) এসব কথা
বলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। খবর এপি।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল গণহত্যা
চালিয়ে যাচ্ছে- সম্প্রতি আইসিজে বরাবর এ অভিযোগ আনে দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্য হেগের এ আদালতে
দুইদিনের শুনানির পর নেতানিয়াহু বলেন, অভিযোগটি ইসরায়েলের জন্য মানহানিকর ও ভণ্ডামিপূর্ণ।
পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ইসরায়েলকে
আকাশ ও স্থল আক্রমণ বন্ধ করার নির্দেশ দিতে আদালতকে আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
টেলিভিশন বক্তৃতায় ইরান ও সমর্থিত সশস্ত্র
গোষ্ঠীকে উল্লেখ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, হেগ, শয়তানের অক্ষ বা অন্য কেউ
আমাদের থামাতে পারবে না।
বিশ্ব আদালতে মামলাটি বছরের পর বছর
চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে একটি
রায় আসতে পারে। এ আদালতের রায় মানতে বাধ্য করা কঠিন, অবস্থাদৃষ্টে তা-ই হতে চলেছে।
নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন, যুদ্ধ থামানোর নির্দেশ উপেক্ষা করবে ইসরায়েল।
যুদ্ধ শেষ করার জন্য ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক
চাপের মধ্যে রয়েছে তেল আবিব। তাদের হামলায় গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ২৩ হাজারেরও বেশি
ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। আর ২০ লাখ বাসিন্দার ৮৫
শতাংশ হারিয়েছেন বাড়িঘর। অবরুদ্ধ ছিটমহলে এমন দুর্ভোগের মাঝেও ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে
যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে গতকাল ওয়াশিংটন,
লন্ডন, প্যারিস, রোম, মিলান ও ডাবলিনসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রধান শহরের রাস্তায় নেমে
আসে হাজার হাজার মানুষ। হোয়াইট হাউজের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলকে দৃঢ়
সমর্থনের কারণে আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে জো বাইডেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ইসরায়েলের যুক্তি হলো, যুদ্ধের সমাপ্তি
মানে হামাসের বিজয়। যুক্তরাষ্ট্রও হামাসকে কেন্দ্র করে এ যুদ্ধের নায্যতা তুলে ধরছে।
গত ৭ অক্টোবর হামাস ও ফিলিস্তিন ভিত্তিক
অন্যান্য গোষ্ঠীর হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। এছাড়া প্রায় ২৫০ জনকে
জিম্মি করা হয়, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির সময় মুক্তি পেয়েছেন।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর সক্রিয় হয়ে উঠেছে
ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো। ইয়েমেনে হুথি, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাক ও সিরিয়ায়
সশস্ত্র সংগঠনগুলো নতুন নতুন আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে
হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বৈশ্বিক বাণিজ্যে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। এসব হামলার জবাবে
ইয়েমেনের স্থল ভাগে সম্প্রতি হামলা শুরু করেছে মার্কিন-ব্রিটিশ বাহিনী। যা যুদ্ধকে
নতুন মাত্রা দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।










