যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি অঞ্চলের বায়ুর মান রাতারাতি কমে গেছে। এ কারণে সতর্ক বার্তার অধীনে আছেন কোটি খানেক মানুষ। মূলত কানাডায় সৃষ্ট দাবানল থেকে উড়ে আসা ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি শহরের বাতাসকে দূষিত করে তুলেছে। আকাশ হয়ে উঠেছে ঘোলাটে বাদামী। দ্য গার্ডিয়ান।

গতকাল বুধবার (৭ জুন) নিউইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস ও কানেকটিকাটসহ পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো বায়ু মানের সতর্কতা জারি করে। বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে কার্যকলাপ সীমিত করার পরামর্শ দেন কর্মকর্তারা।

ওয়েস্টার্ন কানাডা থেকে নোভা স্কটিয়া ও পূর্বে কুইবেক পর্যন্ত শত শত দাবানল জ্বলছে। গ্রীষ্মের শুরুতেই ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে আগুন। গত মাস থেকে দক্ষিণমুখী ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের সীমানায় চলে আসছে।

আইকিউএয়ারের মতে, গতকাল নিউইয়র্ক সিটির বায়ুর গুণমান বিশ্বের যেকোনো বড় শহরের চেয়ে খারাপ ছিল। দ্বিতীয় স্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। তারপরই ছিল ডেট্রয়েট, ১৩তম স্থানে ছিল মিশিগান।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে বাতাসে প্রথম ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়া যায়। এদিন আকাশ কমলা-বাদামী হয়ে যায় ও সূর্যাস্তের আগে দৃশ্যমানতা সংকুচিত হয়। পরদিনও গন্ধ অব্যাহত ছিল এবং মধ্য ও পূর্ব নিউইয়র্ক রাজ্যের বেশিরভাগ অংশে বুধবার রাত পর্যন্ত বায়ু মানের এ অবস্থা বহাল থাকবে।

এ কারণে আউটডোর ইভেন্টগুলো বাতিল করে নিউইয়র্কের স্কুলগুলো। করোনাভাইরাস মহামারীর পর আবারো বাসিন্দাদের ফেস মাস্ক পরতে বলা হয়।

মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেন, আমরা নিউইয়র্কবাসীকে যতটা সম্ভব বাড়ির বাইরের কার্যকলাপ সীমিত করার পরামর্শ দিচ্ছি। যাদের আগে থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে, সেইসঙ্গে বিশেষভাবে সংবেদনশীল শিশু ও বৃদ্ধদের বাড়ির ভেতরে থাকা উচিত।

সতর্ক বার্তার মাঝে রয়েছে নিউজার্সির প্রায় পুরো রাজ্য। এছাড়া ক্লিভল্যান্ড, ওহাইও থেকে নিউইয়র্কের বাফেলো পর্যন্ত গ্রেট লেক অঞ্চল জুড়ে ধোঁয়াশা পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ধোঁয়া দক্ষিণ ক্যারোলিনা পর্যন্ত প্রবাহিত হওয়ায় কর্মকর্তারা দরজা ও জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন।

ইউএস এনভায়রনমেন্টাল প্রোটেকশন এজেন্সি (ইপিএ) বলেছে, ঝাপসা আকাশ, দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া ও পোড়া কাঠের গন্ধ আরো কয়েকদিন থাকবে। এছাড়া উত্তরের রাজ্যগুলোতে ধোঁয়া থাকবে কয়েকদিন।

২০২১ সালে ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাসোসিয়েশনের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গরম, শুষ্ক আগুন আবহাওয়া বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

এদিকে ২০৯০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী দাবানল ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে বলে গত বছর সতর্ক করে দিয়েছে জাতিসংঘ।

গত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বড় একটি অংশ দাবানলের কারণে সংকটে পড়েছে। যাকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে পড়া হচ্ছে।