হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন বাতিল করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সেইসঙ্গে সেখানে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীরা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর না হলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের অধিকার হারাবে বলে জানিয়েছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।

ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কি হবে?

এ নিষেধাজ্ঞায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু বিদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। যারা এ সেমিস্টারে স্নাতক করছেন, তারা তাদের ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে যারা এখনো ডিগ্রি শেষ করেননি, তাদের হয়তো অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তরিত হতে হবে। মার্কিন সরকারের ভাষ্যমতে, না হলে তারা দেশে থাকার আইনি অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে থাকবেন।

তবে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানিয়েছে, হার্ভার্ড যদি মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করতে পারে, তাহলে তারা আবার এসইভিপি ( স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিসিটর প্রোগ্রাম) সার্টিফিকেশন ফিরে পেতে পারে। এই নথিপত্রে থাকতে হবে— আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ও আন্দোলন সংক্রান্ত যেকোনো অডিও ও ভিডিও রেকর্ডিং।

হার্ভার্ড কি বলছে?

ট্রাম্প প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে করে হার্ভার্ড বলছে, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণা মিশনের জন্য হুমকি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের দিকনির্দেশনা ও সহায়তা প্রদানে কাজ করছে হার্ভার্ড।

শিক্ষাবিষয়ক নীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা এভাবে বাতিল করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। আমেরিকান কাউন্সিল অন এডুকেশনের কর্মকর্তা সারাহ স্প্রেইটজার বলেন, আইনে নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক সমস্যার বাইরে আমি কখনও ভিসা বাতিলের এমন উদাহরণ দেখিনি। এটি সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানবিরোধী কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতা। এর আগেও প্রশাসন হার্ভার্ডের গবেষণার তহবিল স্থগিত করেছে, ৩ বিলিয়ন ডলারের অনুদান জব্দ করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছে।

শিক্ষার্থীরা কি বলছেন?

ভিসা বাতিলের খবর শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। একজন শিক্ষার্থী বলেন, সবাই কিছুটা আতঙ্কিত। আরেকজন বলেন, এটা ভীতিকর ও দুঃখজনক, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগ ছিল।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ ও শিক্ষাবিষয়ক দপ্তরের নির্দিষ্ট অধিকার রয়েছে । যদি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারের নীতিমালা বা সুরক্ষা নিয়ম ভঙ্গ করে তাহলে এসইভিপি সার্টিফিকেশন বাতিল বা স্থগিতের ক্ষমতা রয়েছে সরকারের। তবে এই ক্ষমতা ব্যবহার আকস্মিক, একতরফা ও রাজনৈতিক পটভূমিতে করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও গ্রহণযোগ্যতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। হার্ভার্ডের বিরুদ্ধে নেয়া এ পদক্ষেপ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপরেও প্রয়োগ হতে পারে। প্রশাসনের সম্ভাব্য পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

এ পদক্ষেপে আর্থিক ও শিক্ষাগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে হার্ভার্ড। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের একটি বড় উৎস। তারা বছরে হাজার হাজার ডলার টিউশন ফি দেয়ার পাশাপাশি উচ্চমানের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলা করেছে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ। আইন বিশেষজ্ঞদের প্রত্যাশা, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ আদালতের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। সম্প্রতি ফেডারেল বিচারকরা রায় দিয়েছেন, শিক্ষার্থী ভিসার স্থিতি পরিবর্তনের জন্য যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।