চলতি বছরের এপ্রিলে সুদানের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির জমজমে এক হাজারের বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী এল-ফাশেরের অবরোধের অংশ হিসেবে হামলা চালায় র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)। খবর আল জাজিরা।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরএসএফের তিনদিনের এ হামলায় প্রতিটি ঘরে অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষ করে বাজার, স্কুল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে শত শত মানুষকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে। যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও যৌন দাসত্বের ঘটনাও ব্যাপকভাবে ঘটেছে। প্রতিবেদনে এ ঘটনা ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন’ এবং মানবাধিকারের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জঞ্জাওয়েদ মিলিশিয়ার হামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা মানুষকে আশ্রয় দিতে ২০০৪ সালে জমজম শিবিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিবিরটি বিস্তৃত হয়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের আশ্রয়ের স্থান হয়। এ শিবির এলাকাটির আয়তন প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ ও তিন কিলোমিটার চওড়া। এপ্রিলে হামলার আগে আরএসএফ শিবিরে খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রবেশে বাধা দেয়, যা মানবিক সংকটকে আরো গভীর করে তোলে।

আরএসএফ ও সুদান সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাত ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হয়। এ যুদ্ধে ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মৃত্যুর সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। এ যুদ্ধের ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বেশকিছু অঞ্চলে বিশেষ করে জমজম শিবিরে খরা ও দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, ‘এ প্রতিবেদনের তথ্য আমাদের অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনের কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এ নির্যাতনের চক্র যেন শেষ হয় এবং ভুক্তভোগীদের জন্য দায়িত্ব ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হয়।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জমজমের মতো সহিংসতা এখন এল-ফাশেরেও পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।’

দক্ষিণ সুদানে যুদ্ধ এখন তীব্র হয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ কর্দফান অঞ্চলে। সুদানের চিকিৎসক নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, দক্ষিণ কর্দফানের দিল্লিং শহরে গত ৪৮ ঘণ্টায় গোলাবর্ষণে ১৬ জন নিহত হয়েছে এবং দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

আরএসএফ ও মিত্রবাহিনীকে এ হামলার জন্য দায়ী করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।