২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কেটি মিলার আবার সরকারি চাকরিতে ফিরে আসেন ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’-তে। যেখানে তার ভূমিকা ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত ধনকুবের ইলোন মাস্কের ‘শেরপা’ হিসেবে। পদটি মূলত একধরনের রাজনৈতিক গাইডের মতো, যিনি প্রযুক্তিবিদের হোয়াইট হাউজে প্রবেশ ও প্রভাব তৈরিতে সাহায্য করছিলেন।
কিন্তু হঠাৎ করেই সেই সম্পর্ক জটিলতায় ভরে উঠেছে। মাস্ক যখন হোয়াইট হাউজ ত্যাগ করার ঘোষণা দেন, মিলারও তার সঙ্গে চাকরি ছেড়ে পুরোপুরিভাবে মাস্কের দলে যোগ দেন। আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কূটচাল, বিশ্ব মিডিয়ার চোখ এখন কেটি মিলারের দিকে। খবর টেলিগ্রাফ।
এক সময় ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন কেটি মিলার। ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউজে যোগ দেন কেটি। দ্রুতই তিনি আলোচনায় আসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কঠোর আচরণের জন্য। ২০২০ সালে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে তার সঙ্গে স্টিফেন মিলারের বিয়ে হয়। তবে পেন্সের প্রেসিডেন্ট প্রচারে যাওয়ার পর তাকে দলে ঠাঁই দেয়া হয়নি।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফা পরিকল্পনায় কেটিকে ‘ডজ অ্যাডভাইজরি বোর্ড’-এ নিয়োগ দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ‘স্পেশাল গভর্নমেন্ট এমপ্লয়ি’ পদে যোগ দেন। একই সঙ্গে মাস্কের প্রতি প্রশাসনের আস্থা তৈরি করতেও মুখ্য ভূমিকা রাখেন তিনি।
হোয়াইট হাউজের এক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, ‘ইলোনের সঙ্গে কাজ করতে কেউ স্বস্তিতে ছিল না, কিন্তু কেটি থাকায় সবাই কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিল।’
কিন্তু এরপর আসে নাটকীয় মোড়—মাস্ক ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেন। মিলারের ১৩০ দিনের নিয়োগ শেষ হলে তিনি মাস্কের ব্যক্তিগত টিমে যোগ দেন। এ অবস্থায় তিনি চেয়েছিলেন হোয়াইট হাউজ ও মাস্কের মধ্যে সেতুবন্ধ রক্ষা করতে। কিন্তু মাস্ক যখন তার স্বামীর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া দেখান—এমনকি স্টিফেন মিলারকে ‘এক্স’-এ আনফলো করে দেন—তখন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই কেটি মিলার বিব্রত অবস্থায় পড়ে যান।
একজন সাবেক ট্রাম্প কর্মকর্তা বলেন, ‘কেটি চরমভাবে অনুগত। কিন্তু এ দ্বন্দ্বে তার সেই অনুগত চরিত্র বড় পরীক্ষায় পড়েছে। সবকিছুরই একটা সীমা আছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প ও মাস্কের এ দ্বন্দ্ব শিগগিরই শেষ হওয়ার নয়। আর এ সংকটে কেটি মিলারকে হয়তো একসময় পক্ষ বেছে নিতেই হবে। এখন প্রশ্ন হলো তিনি কার পক্ষে দাঁড়াবেন?










