আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই গাজাজুড়ে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ১২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৩১৮ ফিলিস্তিনি। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে গাজার খান ইউনিস ও দেইর এল-বালাহতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ১৫ বেসামরিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাহিনী গত শুক্রবার থেকে ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকাজুড়ে ১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান, স্থল ও সমুদ্রপথে আক্রমণ শুরু করেছে।
ফিলিস্তিনি হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলেছেন, দক্ষিণ গাজার একটি এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছে, যার বেশির ভাগই শিশু। যদিও সামরিক বাহিনী অঞ্চলটিকে নিরাপদ বলে ঘোষণা করেছিল।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে গাজার ২৩ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ৮৫ শতাংশের বেশি নিজেদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, যাদের কিছু অংশ উত্তর গাজায় আশ্রয় নিয়েছে। যদিও সেখানে কোনো নিরাপত্তা নেই। এছাড়া খাবার, পানি ও ওষুধের ভয়াবহ সংকট রয়েছে।
এদিকে গাজায় চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্টিন গ্রিফিথস।
তিনি বলেন, ‘গত ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ হামলার তিন মাস পর গাজা এখন “মৃত্যু ও হতাশার” জায়গায় পরিণত হয়েছে। এখানে হাজার হাজার নারী-শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। পরিবারগুলো খোলা জায়গায় ঘুমাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘যেসব এলাকায় বেসামরিক নাগরিকরা নিরাপত্তার জন্য পুনর্বাসিত হয়েছে, সেগুলোয় আবার বোমাবর্ষণ করা হচ্ছে। হামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা। অবিরাম আক্রমণের ফলে ব্যাহত হচ্ছে সেসব সুবিধা। আমরা অবিলম্বে যুদ্ধের সমাপ্তির দাবি জানাচ্ছি। শুধু গাজার জনগণ ও তার প্রতিবেশীদের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য, যারা এ ৯০ দিনের নারকীয় হামলার কথা কখনো ভুলবে না। এ যুদ্ধ কখনই শুরু করা উচিত ছিল না। কিন্তু এটা শেষ হতে অনেক সময় গড়িয়ে গেছে।’
গত ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ গেছে অন্তত ২২ হাজার ৪৩৮ জনের। এছাড়া আহত হয়েছে আরো কমপক্ষে ৫৭ হাজার ৬১৪ জন।










