মিয়ানমারের কারেনি প্রদেশের রাজধানী লইকাউর দখল নিতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করছে বিদ্রোহীরা। গণতন্ত্রপন্থীরা গতকাল পিকআপ ভর্তি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাজধানী অভিমুখে রওনা দিয়েছে। শহরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে একের পর এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। এ যুদ্ধে সফল হলে প্রথম একটি প্রদেশের রাজধানী বিদ্রোহীদের দখলে চলে আসবে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, লইকাউর শহরতলিতে বিদ্রোহীরা পৌঁছে গেছে। তবে রাজধানী এখনো জান্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির প্রধান।

মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী জাতীয় ঐক্যের সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন পিপলস ডিফেন্স ফোর্স (পিডিএফ) ও দেশটির বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সশস্ত্র অংশের সমন্বয়ে গঠিত এথনিক আর্মড অর্গানাইজেশনসের (ইএওএস) সৈন্যরা লইকাউ দখল নিতে এ যুদ্ধ পরিচালনা করছে।

গোষ্ঠীটির নেতা লিন লিন বলেন, ‘আমাদের সেনাদের অধিকাংশই লইকাউ শহরের। এটিই আমাদের শহরটির দখল নিতে উদ্বুদ্ধ করছে।’

মিয়ানমারে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা পিডিএফ ও ইএওএসের সৈন্যদের সঙ্গে জান্তা বাহিনীর লড়াইয়ে দখলের পথে রয়েছে রাজধানীটি। পর্বতবেষ্টিত এ শহরে প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা রয়েছে। তবে জান্তা বাহিনীর নির্বিচার বিমান হামলা ও শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে বেশির ভাগ বাসিন্দা পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পিডিএফ যোদ্ধারা।

এদিকে জান্তা সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি দাবি করেন, তাদের সৈন্যরা লইকাউতে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে। কয়েক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের পরও এখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তীব্র যুদ্ধের কারণে শহরটি থেকে জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘ জানায়, ব্যাপক বিমান হামলা ও শহরের ভেতরে তুমুল লড়াইয়ে তাদের নিরাপত্তাজনিত কারণে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে মিয়ানমার। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সেনাচৌকিতে হামলা চালিয়ে আসছে। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ১০২৭’ নামে গত ২৭ অক্টোবর থেকে চালানো বিদ্রোহীদের সমন্বিত অভিযান ক্রমান্বয়ে জোরদার হচ্ছে দেশজুড়ে। গত এক মাসে উত্তরাঞ্চলীয় শান প্রদেশে জান্তার সৈনিকদের প্রায় ২০০ সামরিক স্থাপনা দখলে নিয়েছে বিদ্রোহীরা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহীদের দখলে নেয়া এ স্থাপনাগুলো পুনরুদ্ধার করতে অক্ষম সেনাবাহিনী। আক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অন্যান্য স্থানেও। সাগাইং অঞ্চলের কাওলিন ও কামফাট শহর দখল করেছে বিদ্রোহীরা। এছাড়া সাগাইং ও ম্যাগওয়ে অঞ্চলে জান্তা বাহিনীর সৈন্য ও জান্তা সহযোগী মিলিশিয়াদের ঘাঁটিগুলো দখল করা হয়েছে।

রাখাইন প্রদেশে জান্তা বাহিনীকে অন্তত ৪০টি স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং এ প্রদেশের প্রশাসনও ভেঙে পড়েছে। সংঘর্ষের কারণে চীন, ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।