মধ্যপ্রাচ্যে আরো বড় আকারে যুদ্ধের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান পাঠাবে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তাদের সহযোগী হামাস ও হিজবুল্লাহ থেকে হুমকির পর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে এ পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্স ও বিবিসি।

তেহরানে দুইদিন আগে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার প্রতিক্রিয়া জানাতে ইরানের প্রতিশ্রুতি ঠেকাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে মার্কিন নৌবাহিনীর অতিরিক্ত ক্রুজার এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে গুলি করতে পারা ডেস্ট্রয়ার পাঠানো অনুমোদন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিমানের একটি অতিরিক্ত স্কোয়াড্রনও পাঠাচ্ছে পেন্টাগন।

এক বিবৃতিতে পেন্টাগন বলেছে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার জন্য সমর্থন বাড়াতে এবং যুক্তরাষ্ট্র যে বিভিন্ন অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়ার জন্য প্রস্তুত তা নিশ্চিত করতে অস্টিন মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। পেন্টাগন আরো জানায়, স্থলভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আরো বেশি সংখ্যায় মোতায়েন করা হবে। তাছাড়া ইসরায়েলকে রক্ষা করার যে প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে বলেও বিবৃতিতে জানায় পেন্টাগন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমানসহ অন্যান্য যান মোতায়েন শেষে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে পেন্টাগন সরিয়ে নেবে কিনা তা নিয়ে জল্পনাকল্পনা ছিল। কিন্তু লয়েড অস্টিন এটিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ দিয়ে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ১৩ এপ্রিলের আগে ইরান যখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে আক্রমণ শুরু করেছিল সে সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীও তাদের অবস্থান জোরদারের প্রস্তুতি নেয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রদের সহায়তায় ইসরায়েল প্রায় ৩০০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় সবক’টিই সফলভাবে ধ্বংস করেছিল।

হোয়াইট হাউজ বলেছে, গত বৃহস্পতিবার ফোনালাপে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্রমবর্ধমান হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সহায়তা পাঠানোর কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

এর আগে পেন্টাগনের মুখপাত্র সাবরিনা সিং বলেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে না এ উত্তেজনা অনিবার্য ছিল। তিনি বলেন, ‘উত্তেজনা বেড়ে যাওয়া যে আমরা চাই না, সেটা স্পষ্টভাবে বলেছি। আমরা বিশ্বাস করি যে এখানে শান্তি স্থাপনের একটি পথ আছে এবং তা হচ্ছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি।’

গতকাল বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তি চুক্তিতে পৌঁছার লক্ষ্যে আলোচনার জন্য ইসরায়েলি একটি প্রতিনিধি দল কয়েক দিনের মধ্যে কায়রো যাবে।

হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার জন্য ইরান এবং হামাস উভয়ই ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে এবং প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গাজা যুদ্ধ ১১ মাসে গিয়ে পৌঁছেছে। এ সময়ের মধ্যে ইসরায়েল কর্তৃক হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতাদের যে ধারাবাহিকভাবে হত্যা করা হচ্ছে সে তালিকায় ইসমাইল হানিয়ার নাম সর্বশেষ যোগ হলো।

তাছাড়া ইসমাইল হানিয়াকে হত্যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ফুয়াদ শোকরকে হত্যার দাবি করে ইসরায়েল।

কাতারে সমাহিত করা হয়েছে ইসমাইল হানিয়াকে। ইরান সফরকালে হত্যার শিকার হন তিনি। দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরানে গিয়েছিলেন এ হামাস নেতা। তার হত্যার বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেছেন, হানিয়ার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেয়া তেহরানের কর্তব্য।

তবে হানিয়ার মৃত্যু নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েল। নেতানিয়াহু শুধু ইঙ্গিত করে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার দেশ শত্রুদের দিকে ভয়াবহ আঘাত হেনেছে। তিনি বৈরুতে হামলায় ফুয়াদ শোকরকে হত্যার কথা উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে দেশবাসীকে সতর্ক করে তিনি বলেন, সামনের দিনগুলো চ্যালেঞ্জিং। আমরা বিভিন্ন দিক থেকে হুমকি পাচ্ছি। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত।