ইরানের রাজধানী তেহরানে বুধবার ভোরে হামলায় হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া নিহত হয়েছেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই হামলার কারণে ইসরায়েলের প্রতি প্রতিশোধের প্রবণতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনা গাজায় ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হামাসের মধ্যে প্রায় ১০ মাস ধরে চলা যুদ্ধে আসন্ন যুদ্ধবিরতি চুক্তির সম্ভাবনাকে বিলম্বিত করতে পারে।

হামাসের সশস্ত্র অংশ এক বিবৃতিতে বলেছে, হানিয়ার হত্যাকাণ্ড যুদ্ধকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে এবং বড় ধরনের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে। প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করে ইরান তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং বলেছে যে ইসরায়েলকে সমর্থনের কারণে এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র দায়বদ্ধ।

হানিয়া হত্যার প্রতিবাদে বুধবার রাতে তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইস্তাম্বুলের রাস্তায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী মিছিল করেন। ইস্তাম্বুলের ফাতিহ জেলায় হানিয়ার ছবি সম্বলিত পোস্টার হাতে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের শ্লোগান দিতে দেখা যায়।

উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনই কিছু ঘটার আশঙ্কা করছে না। তবে যাতে এমনটা না ঘটে সেজন্য কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে হানিয়ার ওপর হামলা ইসরায়েল চালিয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হলেও দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেনি এবং এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে।

হানিয়ার সঙ্গে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা খলিল আল-হাইয়া বলেন, রাষ্ট্রীয় এক অতিথিশালায় অবস্থানকালে ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে হানিয়া নিহত হন।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে গাজায় হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলার পর থেকে হামাসের আন্তর্জাতিক কূটনীতির মুখপাত্র হয়ে ওঠেন হানিয়া। ফিলিস্তিনে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিচ্ছিলেন তিনি।

বুধবার সন্ধ্যায় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু হানিয়া হত্যার বিষয়ে কিছু উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, ইসরায়েল সম্প্রতি হামাস ও হিজবুল্লাহসহ ইরানসমর্থিত অংশগুলোকে ধ্বংস করেছে এবং যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেবে। আমরা যেকোনো পরিস্থিতি ও হুমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ আছি।