বৈশ্বির তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছিল
গত ৩ জুলাই। এর আগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নথিবদ্ধ হয় ২০১৬ সালে। কিন্তু এবার দিন গড়াতেই
সেই রেকর্ড ভাঙল। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
ইউএস ন্যাশনাল সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল
প্রেডিকশন (এনসিইপি) দ্বারা সমন্বিত তথ্য অনুসারে, গত মঙ্গলবার (৪ জুলাই) বিশ্বব্যাপী
বায়ুর গড় তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিন অর্থাৎ সোমবার ছিল
১৭ দশমিক ০১ ডিগ্রি।
এর আগে রেকর্ড করা সবচেয়ে উষ্ণতম দিনটি
ছিল ২০১৬ সালে। সর্বশেষ এল নিনোর বৈশ্বিক প্রভাবের সময় গড় তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৯২ ডিগ্রি
সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল।
গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের আবহাওয়া বিষয়ক
সংস্থা ওয়ার্ল্ড মেটেওলজিক্যাল অরগানাইজেশন জানায়, এল নিনো ফিরে এসেছে। বিশেষজ্ঞরাও
ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, বৈশ্বিক তাপমাত্রার বৃদ্ধির এই প্রবণতা আরো রেকর্ড গড়তে পারে।
লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু বিজ্ঞানের
শিক্ষক ড. পাওলো সেপ্পি বলেন, এল নিনো এখনো শীর্ষে ওঠেনি এবং উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্ম
এখনো পুরোদমে চলছে। তাই আগামী দিন বা সপ্তাহগুলোতে রেকর্ডটি আবার ভেঙে গেলে অবাক হওয়ার
কিছু থাকবে না।
এদিকে লাইপজিগ ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয়
বিকিরণের গবেষক ড. কার্স্টেন হাউস্টেইন বলেছেন, বার্ষিক বৈশ্বিক তাপমাত্রা জুলাইয়ের
শেষের দিকে বাড়ে। এবার আরো বেশি উষ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জুলাই হতে পারে সবচেয়ে
উষ্ণতম মাস। যা এক লাখ ২০ হাজার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে এল নিনোর সঙ্গে যোগ
করা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণকে।
তথ্য-প্রমাণ হিসেবে তারা বলছেন, চরম আবহাওয়ার
মধ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহে ভুগছে। চীনের
অনেক অংশে কিছুদিন ধরে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া উত্তর
আফ্রিকা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি তাপমাত্রা দেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে সৌদি
আরবে হজযাত্রীরা অস্বাভাবিকভাবে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন এবার।
এমনকি অ্যান্টার্কটিকা শীতকাল চলমান থাকলেও
হিমবাহের দ্রুত গলন ও সূর্যের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ তাপমাত্রা
দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনের ভার্নাডস্কি রিসার্চ বেস জানায়, ওই মহাদেশের বরফঢাকা বিস্তৃত
আর্জেন্টাইন দ্বীপপুঞ্জে সম্প্রতি ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পারদ চড়েছে। যা
জুলাইয়ের তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে।
স্বাস্থ্য সংস্থার এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে
ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক
জেনি মিলার বলেছেন, এরই মধ্যে মানুষ তাপপ্রবাহ, দাবানল ও বায়ু দূষণ থেকে বন্যা ও শক্তিশালী
ঝড়ের জলবায়ু প্রভাব সহ্য করেছে। বৈশ্বিক উষ্ণতা ফসলের ক্ষতি ও সংক্রামক রোগের বিস্তারের
পাশাপাশি অভিবাসনও বাড়িয়ে তুলছে।
সঙ্গে বলেন, কয়লা, তেল ও গ্যাসের উত্তোলন-ব্যবহার
উষ্ণায়নের প্রাথমিক চালক। যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও স্বাস্থ্যকর জলবায়ু
ভবিষ্যতের সঙ্গে বেমানান। সরকারগুলোকে অবশ্যই কপ২৮-এ জীবাশ্ম জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য
শক্তির প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।










