ফ্রান্সে বিক্ষোভের
চতুর্থ রাতে আরো এক হাজারেরও বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এপির বরাতে গার্ডিয়ানের
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে এক রাতেই কমপক্ষে ১ হাজার ৩১১ জনকে
বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাতভর চলা বিভিন্ন সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৮০
জন পুলিশ সদস্য।
শনিবার (১ জুলাই) গার্ডিয়ানের
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ জুন পুলিশের গুলিতে নিহত নাহেল এমকে
কবর দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার পরিবার ও স্বজনরা। স্থানীয় সময় বিকেলের দিকে তাকে কবর
দেয়ার কথা রয়েছে।
নাহেলের মৃত্যু ঘিরে
তৈরি হওয়া বিক্ষোভ দমাতে দেশজুড়ে এরই মধ্যে ৪৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভের মধ্যে অভিভাবকদের নিজেদের
সন্তানদের বাসায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। তবে
তা সত্ত্বেও রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ঘটতে দেখা গিয়েছে। ফ্রান্স কর্তৃপক্ষের
হিসাব বলছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ টি অগ্নিসংযোগ এবং দোকান ভাঙচুরের
ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, ২৭ জুন ট্রাফিক আইন ভাঙার অভিযোগে নাহেল এম নামে ১৭ বছর
বয়সী এক তরুণকে খুব কাছ থেকে গুলি করে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, ওই তরুণ পুলিশকে লক্ষ্য করে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছিল। তাকে
থামানোর জন্য গুলি করা হয়েছে। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই তরুণের গাড়ি
থেমে ছিল। তাকে রিভালবার তাক করে রাখে দুই পুলিশ। এমন সময় ওই তরুণ পালানোর চেষ্টা
করলে তাকে গুলি করা হয়।
এ ঘটনায়
তার মৃত্যু হলে ২৮ জুন ফ্রান্সজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। প্যারিসের রাস্তায় রাস্তায়
মানুষ ডাস্টবিনে আগুন ধরিয়ে দেয়, ভাঙচুর করা হয়
গাড়িঘোড়া। ধীরে ধীরে শহর থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ।
এ ঘটনায় পুলিশকেই দোষী বলছে সরকার। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, এ ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। এটা ক্ষমার অযোগ্য। এক যুবকের এভাবে মৃত্যুকে কোনো যুক্তি দিয়েই ব্যাখ্যা করা যাবে না।
২০১৭ সালে
পুলিশকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহার করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।
পুলিশকে এই অনুমতি দেয়া ঠিক হয়েছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশটিতে।










