নতুন প্রজন্মের পাজেরোর বৈশ্বিক উন্মোচন হবে আগামীকাল। ২০২১ সালে আগের মডেলের উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পর এবার নতুন রূপে ফিরছে গাড়িটি। নতুন মডেল নিয়ে এরই মধ্যে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে মিৎসুবিশি। তবে গাড়িটির অনেক ফিচার এখনো গোপন রাখা হয়েছে।

১৯৮২ সালে প্রথম বাজারে আসে পাজেরো। এরপর এটি মিৎসুবিশির অন্যতম সফল মডেলে পরিণত হয়। বিশ্বজুড়ে গাড়িটির ৩২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। দুর্গম পথে চলার সক্ষমতার কারণে গাড়িটি বিশেষ পরিচিতি পায়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বাজারেও পাজেরোর জনপ্রিয়তা ছিল বেশ ভালো। ব্যবহারিক সুবিধা ও তুলনামূলক সহজলভ্য দামের কারণে সেখানে গাড়িটির একটি শক্তিশালী ক্রেতাগোষ্ঠী তৈরি হয়। বড় এসইউভির বাজারে এটি প্রতিযোগিতা করেছে টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার ও নিশান প্যাট্রোলের মতো গাড়ির সঙ্গে।

তবে প্রায় চার দশকের পথচলার পর পাজেরোর উৎপাদন বন্ধ করে মিৎসুবিশি। জাপানে উৎপাদন বন্ধ হয় ২০১৯ সালে। এরপর ২০২১ সালে বিদেশের বাজার থেকেও গাড়িটি সরিয়ে নেয়া হয়। কমে যাওয়া বিক্রি, কঠোর নির্গমন নীতিমালা এবং নতুন ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়িতে মিৎসুবিশির বেশি মনোযোগ দেয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

নতুন মডেলে পুরনো পাজেরোর কিছু পরিচিত বৈশিষ্ট্য রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ির ড্যাশবোর্ডে থাকা পরিচিত ‘ট্রিপল মিটার’। আগের মডেলগুলোয় এটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহার করা হয়েছিল। নতুন সংস্করণে অবশ্য এটি ডিজিটাল রূপে আসছে।

ডিজিটাল ট্রিপল মিটারে গাড়ির উচ্চতা, বাইরের তাপমাত্রা ও কম্পাসের তথ্য দেখা যাবে। একই সঙ্গে গাড়ির সামনে-পেছনে হেলে থাকার মাত্রা ও ডানে-বাঁয়ে চাকার মধ্যে টর্কের বণ্টনও দেখাবে এটি। ফলে দুর্গম পথে গাড়ি চালানোর সময় চালক বিভিন্ন তথ্য সহজে দেখতে পারবেন বলে জানায় মিৎসুবিশি।

নতুন পাজেরোর বৈশ্বিক উন্মোচনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মিৎসুবিশি। তবে ইউএইর বাজারে গাড়িটি কবে আসবে, কোন কোন সংস্করণ পাওয়া যাবে এবং দাম কত হবে—এসব বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেয়নি কোম্পানিটি। ফলে নতুন পাজেরোর স্থানীয় বাজারে আসার জন্য ক্রেতাদের আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

—খবর: দ্য ন্যাশনাল