গাজায় হামলা নিয়ে মার্কিন ও ইউরোপীয়
প্রগতিশীলদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ইসরায়েলি ইতিহাসবিদ এবং ‘স্যাপিয়েন্স’ ও ‘হোমো দিউস’-এর
মতো জনপ্রিয় বইয়ের লেখক ইউভাল নোয়া হারিরি। এসব প্রতিক্রিয়ায় হামাসের নৃশংসতার
প্রতি ‘কিছু প্রগতিশীলদের উদাসীনতা’ দেখছেন। ইসরায়েলের পাশে না থাকাকে ‘বামপন্থী রাজনীতির
সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক
প্রতিবেদনে জানায়, পশ্চিমা বামপন্থীদের প্রতিক্রিয়ার জবাবে সম্প্রতি ইসরায়েলের ৯০ জন
শিক্ষাবিদ, লেখক ও শান্তিকর্মী একটি বিবৃতি দিয়েছেন। যাদের অন্যতম হারিরি। বিবৃতি অনুসারে,
কিছু বামপন্থী নেতারা হামাসের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দিয়েছেন যা তাদের হতাশ করেছে।
৪৭ বছর বয়সী নোয়া হারিরি সম্প্রতি রাজনীতিতে
নাম লিখিয়ে আলোচনার সামনের সারিতে রয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর
ডানপন্থী জোট ও বিচারিক সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে নিজ দেশের
শান্তিকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, শান্তিকর্মীরা"‘সম্পূর্ণভাবে
বিধ্বস্ত’" এবং ‘শান্তি প্রচেষ্টায়"কথিত মিত্রদের দ্বারা পরিত্যক্ত ও বিশ্বাসঘাতকতার
শিকার বলে অনুভব করছেন’।"
গত ৭ অক্টোবরে হামাসের হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে
ছিল ইসরায়েয়েলি শহর কিবুতজিম। হামলায় এক হাজার ৪০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয় ও ২২০ জনেরও
বেশি অপহৃত হন। ওই শহরে থাকেন হারারির চাচা-চাচী। বন্দুধারীরা প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকলে
এ দুই প্রবীণ লুকিয়ে প্রাণে বাঁচেন।
লন্ডন সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের
বাম রাজনীতির প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে হারারি জানান, তাদের কিছু প্রতিক্রিয়া
দেখে তিনি অনেক অবাক হয়েছেন। কারণ তারা হামলার জন্য হামাসকে নয়, পুরোপুরিভাবে ইসরায়েরকে
দায়ী করছে। এও উল্লেখ করেন, এক সময় পশ্চিমা বামপন্থীরা স্ট্যালিনকেও সমর্থন দিয়েছে।
বিবৃতিতে অন্যান্য স্বাক্ষরকারীদের
মধ্যে রয়েছেন খ্যাতিমান ইসরায়েলি ঔপন্যাসিক ডেভিড গ্রসম্যান। সাম্য, স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার
ও কল্যাণের প্রবক্তা বাম রাজনীতিকরা ইসরায়েল প্রসঙ্গে ‘চরম নৈতিক সংবেদনশীলতা’ ও ‘রাজনৈতিক
অদূরদর্শিতা’ দেখাবে বলে তারা কখনো ভাবতেও পারেননি বলে জানান।
হামাসের হামলার পরদিন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে
৩০ শিক্ষার্থীর একটি বিবৃতির উল্লেখ করেন ইউভাল নোয়া হারিরি। যেখানে বলা হয়েছে, ‘সব
সহিংসতার জন্য পুরোপুরি ইসরায়েল সরকার দায়ী।’ উত্তরে হারিরি বলেন, ‘এর মাধ্যমে বোঝা
যায়, যে লোকেরা শিশুদের হত্যা করেছে তাদের ১ শতাংশ দায়ও নেই এবং ১০০ শতাংশ দায় ইসরায়েলের।’
তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও পণ্ডিতদের
কাজ হলো ঘটনার আরো গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করা। বিশেষ করে আজকের ‘পোস্ট-ট্রুথের’ পরিসরে
বাস্তবতার মাঝে বিদ্যমান জটিলতা দেখার চেষ্টা করা।
ইউভাল নোয়া হারিরির মতে, এভাবে গাজায়
ইসরায়েলের হামলা শুধু হামাসকে ধ্বংস নয়। এর মাধ্যমে বিকল্প ভবিষ্যৎও পাবে ফিলিস্তিনিরা।









