ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলংকার চা–বাগান এলাকার শ্রমিকদের জীবন আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘দিতওয়াহ’-এর প্রভাবে গত নভেম্বরের টানা ভারি বৃষ্টিতে দেশটির মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় শত শত মানুষ প্রাণ হারায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজার হাজার বাড়িঘর। সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হন চা–বাগানে বসবাসকারী দরিদ্র শ্রমিকরা। খবর এপি।
সরকারি হিসাবে, এ দুর্যোগে অন্তত ৬৪০ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ। ভূমিধসে পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত অনেক গ্রাম সম্পূর্ণভাবে মাটিচাপা পড়ে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে ছিল স্কুলব্যাগ, বই, খেলনা ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র।
চা–শ্রমিক অরুমুগাম মানিকাভাল্লি রাতের বেলা প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের শব্দ শুনে ঘর ছেড়ে পাশের একটি মন্দিরে আশ্রয় নেন। তবে সবাই এতটা ভাগ্যবান ছিলেন না। কুমারন এলুমুগামের ছোট ঘরটি ভূমিধসে চাপা পড়ে তার পরিবারের ছয় সদস্য নিহত হন। তিনি তখন কাজে থাকায় বেঁচে যান।
শ্রীলংকার চা–শ্রমিকদের বেশির ভাগই মালাইয়াহা তামিল সম্প্রদায়ের মানুষ। ব্রিটিশ শাসনামলে ভারত থেকে আনা শ্রমিকদের বংশধর এ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। দেশটি চা রফতানি করে বছরে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করলেও এসব শ্রমিক দৈনিক ন্যূনতম মজুরির চেয়েও কম আয় করেন।
অনেক শ্রমিক এখনো ১৫০ বছরের পুরনো কলোনিয়াল যুগের লাইনঘরে বাস করেন। ছোট ছোট ঘরে একসঙ্গে বসবাস করে বড় পরিবার। অনেক ঘরে স্যানিটেশন সুবিধা নেই। জলবায়ু গবেষকরা বলছেন, চা–বাগানগুলো তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে থাকলেও শ্রমিকদের ঘর তৈরি করা হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে।
সরকার জানিয়েছে, সারা শ্রীলংকায় এক লাখের বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। ভারত সরকারের সহায়তায় সাত হাজার নতুন ঘর নির্মাণের একটি প্রকল্পের কথাও বলা হয়েছে।
তবে অনেক শ্রমিক বলছেন, সহায়তা খুব দেরিতে আসছে। ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই তাদের আবার চা পাতা তুলতে কাজে যেতে হচ্ছে।
শ্রমিক সেল্লামুট্টু দারশানি দেবী বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই আমরা আতঙ্কে থাকি।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি শ্রীলংকা।
তবে ঋণের বোঝা ও অর্থনৈতিক সংকটে দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা চা–শ্রমিক চেল্লাইয়া পাঠমানাথান বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ চাই। কেউ যেন আমাদের পাশে দাঁড়ায়।’










