বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমকে অপসারণ করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি অ্যাপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর তাকে এ পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। সেই সঙ্গে দুবাইয়ের শীর্ষ ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ বেশ সমালোচনার মুখেও পড়েছেন।
নতুন চেয়ারম্যান ও গ্রুপ সিইও নিয়োগ দিয়েছে ডিপি ওয়ার্ল্ড। বর্তমানে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স সেন্টারের গভর্নর ঈসা কাজিমকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও সাবেক অর্থ কর্মকর্তা যুবরাজ নারায়ণকে প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ সিইও নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
অ্যাপস্টেইন-সম্পর্কিত নতুন নথি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে শুরু করে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য সরকারের মালিকানাধীন উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট (বিআইআই) ১৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয় কানাডার অন্যতম বড় পেনশন তহবিল ‘লা কাইস’।
এদিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রধান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমকে এমন সময় সরিয়ে দেয়া হলো যখন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারার চুক্তি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বাংলাদেশের দরকষাকষি চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক এ টার্মিনালটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ছেড়ে দেয়ার জোর চেষ্টা চলে। এতে বাদ সাধেন বন্দরের কর্মীরা। তারা তীব্র আন্দোলন শুরু করলে সমালোচনার মুখে পিছু হটে অন্তর্বর্তী সরকার।
নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারার বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হচ্ছে না জানানো হলেও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে দরকষাকষি ঠিকই চলছে। বিষয়টি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন।
রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ৮ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি চিঠি দিয়েছে। তাতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ইজারা চুক্তি নিয়ে চলমান দরকষাকষির অগ্রগতির প্রশংসার পাশাপাশি সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, এ দরকষাকষি ভবিষ্যতে আরো এগোবে এবং সঠিক দিকেই যাবে।
ডিপি ওয়ার্ল্ড চিঠিতে এটিও জানিয়েছে, শেয়ার করা খসড়া কনসেশন চুক্তি তারা গ্রহণ করেছে এবং বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তবে তারা এটি আরো পুনর্মূল্যায়নের (রিভিউ) জন্য কিছু সময় চেয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনা ও উন্নয়ন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ও দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়। সে বছর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ) ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়। সেই সমঝোতার মাধ্যমে তৈরি হয় টার্মিনালটির সম্ভাব্য পরিচালনা, বিনিয়োগ কাঠামো এবং ভবিষ্যতে কনসেশন চুক্তির রূপরেখা বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনা এগিয়ে নেয়ার ভিত্তি।
আওয়ামী সরকার ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হলেও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির ধারাবাহিকতা বজায় রাখে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। পিপিপি কর্তৃপক্ষ ও বিডার নেতৃত্বে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়া আরো গতি পায়।
বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠান বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট হয়। এ চুক্তি যাতে না হয়, সেজন্য তা বাতিলের দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থাও তৈরি হয়।










