প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। স্যাটেলাইট পরিমাপ অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বার্ষিক প্রায় ৪ মিলিমিটার হারে বাড়ছে, যা বৈশ্বিক গড় বৃদ্ধির (৩ দশমিক ৫ মিমি) চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন চরম আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি দেখা গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— ফিলিপাইনে প্রাণঘাতী ভূমিধস, অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক বন্যা, ইন্দোনেশিয়ায় হিমবাহ গলন।

সংস্থার মহাসচিব অধ্যাপক সেলেস্টে সাওলো বলেন, ‘সমুদ্রের অতিরিক্ত উষ্ণতা এবং অম্লতা একত্রে সামুদ্রিক পরিবেশ ও উপকূলীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি অনেক দ্বীপ রাষ্ট্রের জন্য অস্তিত্ব সংকট তৈরি করেছে। আমরা সময় হারিয়ে ফেলছি—এটা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।’

ডব্লিউএমওর আঞ্চলিক পরিচালক বেন চার্চিল বলেন, ‘এ প্রতিবেদন একটি শক্ত বার্তা দিচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের পদক্ষেপ আরো জোরদার করতে হবে। আমরা এমন সব ঘটনা দেখছি যা এর আগে কখনোই দেখা যায়নি।’

২০২৪ সালের জানুয়ারি, এপ্রিল, মে ও জুন মাসে প্রায় ৪ কোটি বর্গকিলোমিটার এলাকায় মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার তাপপ্রবাহ দেখা যায়। এই তাপপ্রবাহের প্রভাবে ২০১৬ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে পঞ্চমবারের মতো ব্যাপক কোরাল ব্লিচিং ঘটে, যার ফলে প্রচুর প্রবাল প্রাণের মৃত্যু হয়।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিদ সহযোগী অধ্যাপক অ্যালেক্স সেনগুপ্ত বলেন, ‘এই তাপপ্রবাহ ছিল সত্যিকার অর্থেই ব্যতিক্রমী। এটি ২০২৩ সাল থেকে বৈশ্বিক সমুদ্র উষ্ণতার ধারাবাহিক রেকর্ড বৃদ্ধিরই অংশ। আমরা এর আগে কখনো এমন কিছু দেখিনি। এবং কেন এমন তীব্র উষ্ণতা দেখা দিয়েছে, সেটিও এখনো আমাদের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।’

এ জলবায়ুবিদ আরো জানান, তাপপ্রবাহের কারণে সমুদ্রজীবের ওপরও প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রের অনেক প্রাণীর তাপমাত্রা সহ্য করার নির্দিষ্ট সীমা থাকে। সেই সীমা অতিক্রম করলে তারা হয় স্থান পরিবর্তন করে, না হয় মারা যায়।

সূত্র— দ্য গার্ডিয়ান।