অ্যাকাউন্ট স্থগিতের সুপারিশের পর ফেসবুক ছাড়লেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন। এক ভিডিও পোস্টের জেরে এ সরকারপ্রধানকে ছয় মাসের জন্য স্থগিতের কথা বলেছিল প্লাটফর্মটির ওভারসাইট বোর্ড। খবর বিবিসি।

ওই ভিডিওতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়েছিলেন হুন সেন। পোস্টটি ছয় লাখের বেশিবার দেখা হয়েছিল।

হুন সেন ৩৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। সবচেয়ে বেশি সময় রাষ্ট্র ক্ষমতা ধরে রাখা রাজনৈতিক নেতাদের একজন তিনি। হুনের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী মাসে ভোটের আগে সব বিরোধিতাকে ধ্বংস করতে চান তিনি।

ফেসবুকে হুন সেনের এক কোটি ৪০ লাখ ফলোয়ার ছিল। বর্তমানে তিনি টেলিগ্রাম ও টিকটক ব্যবহার করছেন। যদিও সমালোচকরা বলে থাকেন, তার ফলোয়ারদের বেশির ভাগেরই অ্যাকাউন্ট ভুয়া।

গত জানুয়ারিতে ভিডিওটি পোস্ট করেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্র। সেখানে জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে তার দলের ভোট চুরির অভিযোগের বিরুদ্ধে বিরোধী নেতাদের হুমকি দেন। বলেন, হয় আপনি আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হবেন, অথবা আমি লোক জড়ো করে আপনাকে পেটাব।

ফেসবুকের প্যারেন্ট মেটার ওভারসাইট বোর্ড গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) তাকে ছয় মাসের জন্য সাসপেন্ডের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট স্থগিতের আহ্বান জানানো হয়।

ওভারসাইট বোর্ডের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই হুন সেন জানান, একজন সহকারীকে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে দিতে বলেছিলেন।

গত মে মাসে কম্বোডিয়ার নির্বাচনী সংস্থা যথাযথ নথির অভাব দেখিয়ে হুন সেনের প্রধান প্রতিপক্ষকে অযোগ্য ঘোষণা করে। এর আগে মার্চে এক বিরোধী নেতাকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ২৭ বছরের গৃহবন্দীর সাজা দেয়া হয়।