পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বা নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে এনেছে ভারত ও চীন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গবেষকরা জানিয়েছেন, এ দুই দেশের এমন অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রে কয়লার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী বিশ্বব্যাপী দূষণ বৃদ্ধির হারও থমকে গেছে। খবর রয়টার্স।
ফিনল্যান্ডভিত্তিক স্বাধীন গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ)’ চলতি মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, গত ৫২ বছরের মধ্যে এই প্রথম বিশ্বের শীর্ষ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ ভারত ও চীনের বিদ্যুৎ খাতের নিঃসরণ একযোগে কমেছে। গত এক দশকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিশ্বজুড়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ বৃদ্ধির ৯৩ শতাংশেরই উৎস ছিল এ দুই দেশ।
সিআরইএ-এর প্রধান বিশ্লেষক লরি মিলিভির্তা বলেন, ২০২৫ সালে চীন ও ভারতে নিঃসরণ কমে যাওয়া একটি ইতিবাচক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর উভয় দেশই রেকর্ড পরিমাণ নতুন পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যা তাদের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।
জ্বালানিবিষয়ক থিংক-ট্যাঙ্ক ‘এম্বার’-এর সংগৃহীত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের বিদ্যুৎ খাতের নিঃসরণ প্রায় চার কোটি টন বা দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে নিঃসরণ কমেছে তিন কোটি ৮০ লাখ টন বা চার দশমিক ১ শতাংশ।
ভারত ও চীনের এ ইতিবাচক ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের কয়লা ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাবকে সামাল দিয়েছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৩ দশমিক এক শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে দেশটিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিঃসরণ বেড়েছে তিন দশমিক ৩ শতাংশ, যা এ শতাব্দীতে দ্রুততম বৃদ্ধির রেকর্ড। তবে এশিয়ার এ দুই জনবহুল দেশের কল্যাণে বিশ্বব্যাপী নিঃসরণ মোটের ওপর স্থিতিশীল রয়েছে।
চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একত্রে বিশ্বের বিদ্যুৎ খাতের মোট নিঃসরণের ৬০ শতাংশের জন্য দায়ী। আইইএয়ের মতে, এ দশকের শেষ নাগাদ চীনে কয়লার ব্যবহার পর্যায়ক্রমে হ্রাস পাবে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটলেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ভারতকে আরো বেশ কিছুকাল কয়লার ওপর নির্ভর করতে হতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি। অন্যদিকে, মার্কিন সরকারের নীতিগত সহায়তা সত্ত্বেও ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কয়লার চাহিদা ৬ শতাংশ কমতে পারে।










