সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইতে চলছে কপ২৮ সম্মেলন। চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। সম্মেলনে আলোচনা হবে জীবাশ্ম জ্বালানির ভবিষ্যৎ ও জলবায়ু পরিবর্তনে দায়ী বিষয়গুলো নিয়ে। তবে প্রথমবারের মতো জলবায়ুর ওপর খাদ্য ও কৃষির প্রভাব বিবেচনায় নিয়েছেন কপ২৮ নেতারা। একই সঙ্গে তা মোকাবেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। খবর বিবিসি।
বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণসহ সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে হামাস-ইসরায়েল সংঘাত। সম্মেলনের শুরুতে ইতিবাচক কিছু উদ্যোগ দেখা গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত তহবিল গঠন করতে সম্মত হয়েছেন নেতারা।
সম্মেলনে ১৩৪টি দেশের নেতা জলবায়ুর ওপর খাদ্য ও কৃষির প্রভাবকে গুরুত্ব দিয়ে ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করেছেন।
বৈশ্বিক মোট খাদ্যের অধিকাংশ উৎপাদন করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ব্রাজিলের মতো দেশ। দুবাইয়ে চলমান এবারের সম্মেলনে প্রত্যেকে জলবায়ু পরিবর্তন রোধের লড়াইয়ে নিজেদের জাতীয় পরিকল্পনায় খাদ্য ও কৃষি ব্যবস্থাকে বিবেচনায় নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বিশ্বের খাদ্য উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ জলবায়ু সংকটে ঝুঁকির মুখে আছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এছাড়া খাদ্য ও কৃষি ব্যবস্থাও জলবায়ু পরিবর্তনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে বলে উঠে এসেছে।
বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এরই মধ্যে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে খাদ্য উৎপাদনে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বন্যা কিংবা ঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে একরের পর একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বন উজাড়, নগরায়নের প্রভাব, চাষাবাদ ও মাটি প্রস্তুত পদ্ধতি এমনকি সারের ব্যবহার থেকে বিশ্বে এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি কার্বন নিঃসরণ ঘটে।
২০১৫ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, খাদ্য ব্যবস্থা বিশ্বে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উষ্ণায়নের জন্য দায়ী। খাদ্য ও কৃষি থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয় ১ হাজার ৮০০ কোটি টন।
কৃষি সংগঠনগুলো কপ২৮ সম্মেলনের এ ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে দেশগুলোকে তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে বলেও সতর্ক করেছে।
সমালোচকরা জানান, এ ঘোষণা খুবই অস্পষ্ট। কারণ খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কীভাবে সামাল দেয়া হবে, সেটি বিশ্বনেতারা নির্ধারণ করেননি।










