গত কয়েকদিনের তাপপ্রবাহে ভারতের জনবহুল
দুটি রাজ্যে কমপক্ষে ৯৬ জন মারা গেছেন। দেশটির বিস্তৃত অঞ্চল আক্রান্ত হলেও মৃত্যুর
এই ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তর প্রদেশ ও পূর্ব বিহারে। খবর এপি।
সম্প্রতি ওই দুই রাজ্যের কর্তৃপক্ষ ৬০
বছরের বেশি বয়সী বাসিন্দা ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দিনের বেলায় বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ
দিয়েছিল।
উত্তরপ্রদেশে মারা গেছেন ৫৪ জন। রাজ্যের
রাজধানী লখনউ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের বালিয়া জেলায থেকে এসব মৃত্যু
খবর আসে। কর্তৃপক্ষ জানান, মৃতদের বেশিরভাগেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। তারা আগে থেকেই অসুস্থ
ছিলেন, যা তীব্র গরমে শোচনীয় হয়ে উঠতে পারে।
গতকাল রোববার (১৮ জুন) বালিয়ার মেডিক্যাল
অফিসার এস কে যাদব বলেন, গরমজনিত অসুস্থতায় গত তিনদিনে প্রায় ৩০০ রোগী জেলা হাসপাতালে
ভর্তি হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে বালিয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদের
ছুটির আবেদন বাতিল করা হয়েছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত বিছানা।
কর্মকর্তারা বলছেন, ভর্তি হওয়া রোগীদের
বেশিরভাগই ৬০ বা তার বেশি বয়সী। তাদের মাঝে অতি জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও
হৃদরোগের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
গতকাল এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল
৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। আপেক্ষিক আর্দ্রতা
২৫ শতাংশ, যা তাপের প্রভাবকে তীব্র করে তুলেছে।
ভারতের আবহাওয়া দফতরের (আইএমডি) বিজ্ঞানী
অতুল কুমার সিং বলেছেন, রাজ্য জুড়ে তাপমাত্রা বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। আগামী
২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বস্তির কোনো আশা নেই।
এদিকে পূর্ব বিহারে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে
গত দুইদিনে ৪২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ৩৫ জন রাজ্যের রাজধানী পাটনার দুটি হাসপাতালে
চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এখনো হাসপাতালে ডায়রিয়া ও বমিতে আক্রান্ত দুই শতাধিক রোগী ভর্তি
আছেন।
গত শনিবার পাটনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা
রেকর্ড করা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এপ্রিল-জুন ভারতে গরমের মৌসুম বলে বিবেচিত।
এই সময় দেশটির বেশিরভাগ অংশ সর্বোচ্চ গরমের দেখা পায়। গত এক দশকে তাপমাত্রা আরো তীব্র
হয়েছে। তাপপ্রবাহের এই সময়ে পানির তীব্র ঘাটতিও দেখা দেয়।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের এক
সমীক্ষায় দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে আঘাত হানা এপ্রিলের তাপপ্রবাহ আরো তীব্র
হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কমপক্ষে ৩০ গুণ বেশি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত মাসে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইতে
এক সরকারি অনুষ্ঠানে ১৩ জনের মৃত্যুর জন্য তাপপ্রবাহকে দায়ী করা হয়। ওই ঘটনার পর কিছু
রাজ্যে এক সপ্তাহের জন্য বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হয়।










