চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নাগাদ নতুন রেকর্ড গড়েছে বৈশ্বিক ঋণ। গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) প্রতিবেদন অনুসারে, এ সময়ে বৈশ্বিক ঋণ প্রায় ৩৪৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মূলত সরকারি পর্যায়ে ঋণগ্রহণের হার বৃদ্ধি এতে অবদান রেখেছে। খবর আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের প্রথম তিন প্রান্তিক শেষে মোট বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের একই সময়ে বেড়েছে ২৬ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। এতে মোট ঋণ বনাম বৈশ্বিক জিডিপির অনুপাত ৩১০ শতাংশে পৌঁছেছে।

বৈশ্বিক ঋণে শীর্ষ হিস্যাধারী দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। তবে ঋণ বৃদ্ধির হারে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো। এসব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো চলতি বছর মুদ্রানীতি শিথিল করেছে। এ কারণে ঋণ নেয়ার হারও বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, সম্মিলিত ঋণে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর অবদান প্রায় ২৩১ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণ ১১৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে চীনের পরে সবচেয়ে বেশি ঋণ বেড়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, পোল্যান্ড ও মেক্সিকোয়।

বৈশ্বিক ঋণ বৃদ্ধি মূলত সরকারি খাতে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। যেখানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে সর্বাধিক বৃদ্ধি দেখা গেছে। এরপর রয়েছে ফ্রান্স, ইতালি ও ব্রাজিল।

বিভিন্ন শ্রেণীতে ঋণ বৃদ্ধির বিবরণ অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক নাগাদ গৃহস্থালি পর্যায়ে ঋণ ছিল ৬৪ ট্রিলিয়ন ডলার। আর্থিক খাত-বহির্ভূত কোম্পানির ঋণ ৯৯ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন, সরকারি ঋণ ১০৫ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন এবং ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ৭৬ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।