বৈশ্বিক বাণিজ্যের সম্মিলিত আকার চলতি বছর রেকর্ড ৩৫ ট্রিলিয়ন বা ৩৫ কোটি ডলার স্পর্শ করবে বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (আঙ্কটাড)। এতে নেতৃত্বের আসনে রয়েছে পূর্ব এশিয়া ও আফ্রিকা। চলতি বছর আমদানিতে শক্তিশালী ধারা বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে পিছিয়ে গেছে চীন। খবর আনাদোলু।

আগের বছরের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বিশ্বজুড়ে চলমান রয়েছে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাণিজ্য মেরুকরণ। এর মধ্যে নতুন সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত শুল্কনীতি।

জাতিসংঘের সংস্থাটি বলেছে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। তা সত্ত্বে সামগ্রিকভাবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চব্যয় ও বৈশ্বিক চাহিদার উত্থান-পতনের কারণে খাতটিতে প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হয়েছে।

প্রাক্কলন অনুসারে, ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাণিজ্য ৭ শতাংশ বাড়বে। এর অর্থ হলো গত বছরের তুলনায় খাতটিতে ২ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার বেশি যোগ হবে, যা একটি রেকর্ড। তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আগের প্রান্তিকের তুলনায় বিশ্ব বাণিজ্য বেড়েছে আড়াই শতাংশ। চলতি চতুর্থ প্রান্তিকে খাতটিতে প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা রয়েছে, তবে তা ধীরগতিতে হতে পারে।

পণ্য বাণিজ্য বাবদ চলতি বছর বাড়তি যুক্ত হবে প্রায় দেড় লাখ কোটি ডলার। অন্যদিকে সেবা বাণিজ্য থেকে আসবে ৭৫ হাজার কোটি ডলার, যা সামগ্রিক ৭ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

বছরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধির মূল কারণ ছিল পণ্যমূল্য বৃদ্ধি। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে বৈশ্বিক বাণিজ্য বৃদ্ধির মূল কারণ হলো বেশি পরিমাণ পণ্য রফতানি। অর্থাৎ আগে পণ্যের দাম বাড়ায় রফতানিকারকদের আয় বেড়েছে। এখন পণ্যের দাম কমলেও শিপমেন্ট বাড়ছে। এটি দেখাচ্ছে যে মূল্যস্ফীতি কমলেও চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছর আঞ্চলিক বাণিজ্য বেড়েছে। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় রফতানি খাতে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আশা করছে দেশগুলো। আফ্রিকায় রফতানি ৬ শতাংশ ও আমদানি বেড়েছে ১০ শতাংশ। এছাড়া দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। বাণিজ্য খাতে এ প্রবৃদ্ধি উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ প্রতিফলিত করছে বলে জানিয়েছে আঙ্কটাড।

স্বতন্ত্র অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকা যথাক্রমে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকায় বাণিজ্যে প্রধান প্রভাবক। এছাড়া পূর্ব এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া।

চলতি বছর বিশ্বব্যাপী শিল্পোৎপাদন বেড়েছে ১০ শতাংশ। এতে ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইলেকট্রনিকস খাত। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চাহিদা বাড়ায় সুফল পাচ্ছে এ শিল্পসংশ্লিষ্ট দেশগুলো।

জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে শস্য, ফল ও শাকসবজি রফতানি ১১ শতাংশ বেড়েছে, যা কৃষিতে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ নির্দেশ করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের সংস্থাটি। তবে জ্বালানি তেল রফতানি বাবদ আয় কমেছে। এর কারণ হলো চলতি বছর জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। অন্যদিকে মোটরগাড়ির বাণিজ্য কমেছে ৪ শতাংশ।