ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রায় মারাপি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২২ পর্বতারোহীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকর্মীরা। এখনো একজন পর্বতারোহী নিখোঁজ রয়েছে।  স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) আগ্নেয়গিরির খাদের কাছে থেকে এসব পর্বতারোহীর মৃতদেহ উদ্ধার করে দেশটির উদ্ধারকারকর্মীরা। খবর রয়টার্স। 

গণমাধ্যমটি জানায়, গত রোববার ১২ জন নিখোঁজের সংবাদ জানিয়েছিল তারা। স্থানীয় সময় বুধবার থেকে ২০০ জনের একটি উদ্ধারকর্মী দলের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। উদ্ধারকর্মীরা আগ্নেয়গিরির খাদের কাছ থেকে মৃতদেহগুলো সরিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী দলের প্রধান আব্দুল মালিক।

এর আগে রোববার ২ হাজার ৮৯১ মিটার উচ্চতার অগ্ন্যুৎপাতের ছাই প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে ওই এলাকায় সতর্কতা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়াও বাসিন্দাদের ওই ৩ কিলোমিটার এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে বলেছিল তারা। মারাপি সুমাত্রা দ্বীপের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরির একটি। 

সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল।দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আছে। এর মধ্যে মাউন্ট মারাপি আগ্নেয়গিরিতে গতকাল অগ্নুৎপাত শুরু হয়। এ কারণে আশপাশের গ্রামগুলো ছাইয়ে ছেয়ে যায়। অগ্ন্যুৎপাতের সময় ওই এলাকায় ৭৫ জন পর্বতারোহী ছিলেন। তাদের অধিকাংশকেই উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ছাইয়ে ঢেকে গেছে ওই স্থানের রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন যানবাহন। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, এই অবস্থায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। 

১৯৭৯ সাল থেকে মারাপি সুমাত্রা দ্বীপের মরণখ্যাত আগ্নেয়গিরি হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ওই বছর সেখানে প্রায় ৬০ জন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছিল।