রাশিয়ার কাছে শক্তিশালী নতুন ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে যা ‘ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত’। এ কথা বলে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেনের শহর ডনিপ্রোতে নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের একদিন পর এক টেলিভিশন ভাষণে এ কথা বলেছেন তিনি। খবর বিবিসি।
পুতিন বলেন, ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে আটকানো সম্ভব নয় এবং এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের আরো মহড়া হবে, যা ব্যবহার করা হবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে।
গত সপ্তাহে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো মার্কিন ও ব্রিটিশ ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার ওপর নিক্ষেপ করলে ঘনীভূত হয় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা। তার মধ্যেই ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল রাশিয়া।
এ প্রেক্ষিতে বিশ্ব নেতাদের প্রতি ‘গুরুতর প্রতিক্রিয়া’ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, যাতে পুতিন তার কাজের সত্যিকার পরিণতি অনুভব করেন। জেলেনস্কি আরো বলেন, তার দেশ পশ্চিমা অংশীদারদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স-ইউক্রেন অনুসারে, কিয়েভ যুক্তরাষ্ট্রের টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) অথবা অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিক সংস্করণ পেতে চাইছে।
গতকাল শুক্রবারের (২২ নভেম্বর) ভাষণে পুতিন বলেন, ওরেশনিক হাইপারসনিক মিসাইল শব্দের গতির চেয়ে ১০ গুণ দ্রুত উড়েছে এবং তিনি এগুলো আরো উৎপাদনের আদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তটি ইউক্রেনের স্টর্ম শ্যাডো এবং আটাকমস মিসাইল ব্যবহারের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
বৃহস্পতিবার ডনিপ্রোতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতকে প্রত্যক্ষদর্শীরা অস্বাভাবিক বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি এমন বিস্ফোরণের সূত্রপাত করেছিল যা চলেছিল প্রায় তিন ঘণ্টা। এই হামলায় এমন একটি মিসাইল ছিল যাকে শক্তিশালীর বিচারে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) বলে মনে করেছিলেন।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বিষয়ক পরামর্শদাতা সংস্থা সিবিলাইন-এর সিইও এবং প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন ক্রাম্প বিবিসিকে বলেছেন, মস্কো সম্ভবত এই আঘাতটিকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যবহার করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, মিসাইলটি তাদের অস্ত্রাগারের অন্যগুলোর চেয়ে দ্রুততর এবং আরো উন্নত যা ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ হতে পারে।









