মিসরের সিনাই প্রদেশে গণকবর থেকে শত শত দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। মানবাধিকার সংস্থার দাবি, এসব দেহ বেসামরিক নাগরিকদের, যাদের মিসরীয় সেনাবাহিনী হত্যা করেছে। অনেক দেহ মাটির ওপরে ছিল, আবার কিছু মরদেহ মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। খবর দ্য গার্ডিয়ান
সিনাই ফাউন্ডেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এসএফএইচআর) দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে গবেষণা করছে। তারাই এ কবরগুলোর সন্ধান পায়।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক আহমেদ সালেম বলেন, কবরগুলো শুধু সংঘাতের সময় মিসরীয় সেনাবাহিনীর আইন লঙ্ঘনের মাত্রাই তুলে ধরে না। বরং এটি হত্যা ও সম্পূর্ণ দায়মুক্তির সঙ্গে গোপনে মৃতদেহ পুঁতে ফেলার একটি পদ্ধতিগত প্রক্রিয়াকেও প্রমাণ করে।
তবে মিসর সরকার এসব তথ্য অস্বীকার করলেও তাদের বিরুদ্ধে অন্তত দেড় লাখ মানুষকে জোরপূর্বক স্থানচ্যুত করার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি আইএসবিরোধী অভিযানে বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনাও তারা অস্বীকার করেছে।
এসএফএইচআর তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আল-আরিশ শহরের দক্ষিণে কবরগুলোর অবস্থান পাওয়া গেছে। এলাকায় সামরিক ঘাঁটি ও বালির পরিখা রয়েছে। কবরটি রাস্তা থেকে মাত্র ৩৫০ মিটার দূরে হলেও সামরিক উপস্থিতির কারণে আড়াল হয়ে ছিল। ২০১৩ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত এলাকাটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল।

গুগল আর্থ এর স্যাটেলাইট ছবি
এসএফএইচআর জানায়, সামরিকপন্থি মিলিশিয়াদের দুই সদস্য গণকবর সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের নিজেদের গবেষকদেরই জায়গাটি খুঁজে বের করতে হয়েছে। দুবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর গবেষকরা দুটি গর্ত খুঁজে পান। এর মধ্যে একটি গর্ত সামরিক বাহিনীর খুব কাছে থাকায় তারা সেখানে প্রবেশ করতে পারেননি। তবে ওপর থেকে মরদেহের দেহাবশেষ দৃশ্যমান ছিল। অন্য গর্তে কিছু দেহ বন্যার কারণে ওপরে উঠে এসেছিল, আবার কিছু দেহ সামান্য খননের পর পাওয়া গিয়েছে।
লন্ডনের গোল্ডস্মিথস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক আর্কিটেকচার নামের গবেষণা সংস্থা স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ ও ছবি মিলিয়ে অন্তত ৩৬টি খুলি শনাক্ত করেছে। এসএফএইচআর এর গবেষকরা বলছেন, তাদের নিজস্ব গণনায় ওই জায়গায় ৩০০টিরও বেশি মরদেহ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন।
এসএফএইচআর দলের একজন সদস্য বলেন, ‘এত মরদেহ একসঙ্গে কল্পনাও করা যায় না। মরদেহগুলোতে তখনকার পোশাক ছিল ও চোখ কাপড়ে বাঁধা ছিল। কোনো সামরিক পোশাক বা অস্ত্রের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’
সংস্থাটির প্রাথমিক এক সূত্র জানায়, নিহতদের অনেককেই আটক করে সঙ্গে সঙ্গেই হত্যা করা হয়েছিল। অনেককে আবার বেশ কয়েক বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। সবাই যে জঙ্গি ছিল তা নয়, বরং তাদের সহযোগিতা করার সন্দেহ করা হয়েছিল। তবে কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা প্রমাণ ছাড়াই তাদের হত্যা করা হয়।
আল-আরিশের দক্ষিণে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সেনারা মরদেহের পাশে অস্ত্র রেখে পরদিন এক বিবৃতিতে দাবি করে, তারা সংঘর্ষে ১৫ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে।
এক নারী জানান, ২০১৬ সালে তার স্বামী, শ্বশুর ও ভাইদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। নয় বছর পরও তাদের খোঁজ মেলেনি। সামরিক বাহিনী খোঁজ না করতে বলেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভয়ের মধ্যে বেঁচে আছি। আমার ছেলে কেবল বাবার ছবি দেখেই বড় হচ্ছে।’










