ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উড়োজাহাজ চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান প্রধান আকাশপথগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত রুটগুলোতে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা পথ পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছে এয়ারলাইনসগুলো। বিশেষ করে দুবাই, দোহা ও তেল আবিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে গেছে। খবর বিবিসি।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ভার্জিন আটলান্টিক ও এমিরেটসের মতো বড় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলো এই অঞ্চলে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ও আল মাকতুম ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের সমস্ত ফ্লাইট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এমিরেটস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। এই অচলাবস্থার কারণে হাজার হাজার যাত্রী বিভিন্ন বিমানবন্দর ও ট্রানজিটে আটকা পড়েছে। আকাশপথ বন্ধ থাকায় দূরপাল্লার ফ্লাইটগুলোকে এখন বিকল্প পথে ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেকটা বাড়তি সময় লাগছে।

দুবাই থেকে লন্ডনে ফেরার অপেক্ষায় থাকা সারা শর্ট নামের এক যাত্রী জানান, তাদের উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের জন্য প্রায় প্রস্তুত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পাইলট ঘোষণা করেন, আকাশপথ বন্ধ থাকায় তারা কোথাও যেতে পারছেন না। এরপর তাদের ৩ ঘণ্টারও বেশি সময় উড়োজাহাজের ভেতর বসে থাকতে হয়। একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে কাতার ও কুয়েতেও। দোহায় অবস্থানরত পর্যটক জন হেনরি জানান, কেনাকাটা করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ ও কম্পন অনুভূত হয় এবং এর পরপরই বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।

বর্তমানে ইরান, ইসরায়েল, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সিরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশপথ পুরোপুরি বন্ধ। সৌদি আরবের আকাশপথ আংশিক বন্ধ রাখা হয়েছে। জর্ডান ও লেবাননের আকাশপথ খোলা থাকলেও সেখানে উড়োজাহাজ চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে। এর ফলে ইউরোপ থেকে এশিয়ায় যাতায়াত করা উড়োজাহাজগুলো এখন ককেশাস অঞ্চল বা সৌদি আরবের দক্ষিণ দিক দিয়ে ঘুরে চলাচল করছে। ভার্জিন আটলান্টিক জানিয়েছে, ভারত ও মালদ্বীপগামী ফ্লাইটগুলোর পৌঁছাতে এখন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত উত্তপ্ত। ইরানের পাল্টা হামলায় বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুবাই বিমানবন্দরে হামলার এক ঘটনায় চারজন কর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও আরব আমিরাতে অবস্থানরত বিদেশিদের ঘরের বাইরে বের না হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রাজনৈতিকভাবেও এই উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই এই হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক করেছেন। বিভিন্ন দেশের সরকার এখন তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই বিশৃঙ্খলা আরো কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।