বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি), শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ডাটা সেন্টারের ব্যবহার বাড়ায় বিশ্বজুড়ে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে অনেক দেশ। এতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে আগামী দিনে কয়লার চাহিদা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে শুধু চীন ও ভারতে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা বাড়বে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে বিশ্বব্যাপী কয়লার ব্যবহার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে। ইভি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ডাটা সেন্টারের বিস্তারের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের কারণে কয়লার ওপর নির্ভরতা কমতে থাকবে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী কয়লার চাহিদা তুলনামূলক কম। তবে জ্বালানিপণ্যটির সরবরাহ এখনো স্থিতিশীল। এর পরও চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলীয় কয়লার দাম আগের প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) তুলনায় টনপ্রতি ৬ ডলার বা ৬ শতাংশ বেড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ সময় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তাপপ্রবাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। ফলে কয়লার চাহিদাও বাড়ে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে রফতানি কমে যাওয়ায় সে সময় জ্বালানি পণ্যটির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছিল। এছাড়া চীনে উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে কয়লার চাহিদা বাড়ায় জ্বালানিপণ্যটির দাম বাড়ার প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে ২০২৬ সালে শুধু ভারতে কয়লা উত্তোলন বাড়বে। তবে এ সময় বিশ্বব্যাপী জ্বালানিপণ্যটির উৎপাদন কমতে পারে। এছাড়া আগামী বছর বিশ্বব্যাপী কয়লার আমদানি-রফতানিও কমতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বব্যাপী কয়লা উত্তোলন বেড়েছে। এ সময় চীনের উত্তোলন বাড়ার হার ছিল এর আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রে কয়লা উত্তোলন বেড়েছে ৮ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় খনি দুর্ঘটনার কারণে উত্তোলন ব্যাহত হয়েছিল।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অস্ট্রেলীয় কয়লার দাম কমতে পারে আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা আরো ৭ শতাংশ কমতে পারে। তবে ২০২৭ সালে কয়লার দামে কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, চীনে কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি, প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ডাটা সেন্টার থেকে বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়লে দামে ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী উৎপাদন অব্যাহত থাকা এবং চীন ও ভারতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কমে গেলে কয়লার চাহিদাও কমে যেতে পারে।










