তাইওয়ানের সঙ্গে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ও স্বাধীনতাপন্থীদের সমর্থন না করার বিষয়ে ইউরোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উর ইউরোপ সফরের প্রাক্কালে চীনের পক্ষ থেকে ইউরোপকে এ বার্তা দেয়া হয়েছে। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেফ উ। এ সময় আগে থেকে নির্ধারিত। সফরের আগে চীনের সতর্কবার্তার পর শুক্রবার চেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাইওয়ানের প্রতি বিদ্যমান নীতি থেকে তাদের সরে আসার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যান লিপাভস্কি নিশ্চিত করেছেন, তাইওয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী সপ্তাহেই প্রাগ সফর করবেন।

চীন তাইওয়ানকে নিজ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে মনে করে। এজন্য তাইওয়ানের সঙ্গে ভ্যাটিকান ছাড়া ইউরোপের অন্য কোনো দেশের আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থাৎ কূটনৈতিক কোনো সম্পর্ক আপাতত নেই। ফলে তাইওয়ান ও বিদেশী কর্মকর্তাদের মধ্যকার যেকোনো ধরনের যোগাযোগকে চীন তার অখণ্ডতার ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করে। চীন মনে করে, এ ধরনের যোগাযোগ তাইওয়ানকে পৃথক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার নামান্তর।

রয়টার্স জানিয়েছে, তাইওয়ান সরকার এখনো জোসেফ উর ইউরোপ সফরের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে আশা করা হচ্ছে, চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে একটি থিংক ট্যাংক ইভেন্টে চেক প্রেসিডেন্ট পেত্রো পাভেলের পর পরই তাইওয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বক্তৃতা করবেন।

এ সফর সম্পর্কে জানতে চাইলে চেক মন্ত্রী লিপাভস্কি বলেন, ‘জোসেফ উ প্রাগে আসার বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন।’ নির্ধারিত সময়েই এ সফর সম্পন্ন হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা কীভাবে তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখব, সে সম্পর্কে চেক সরকারের স্পষ্ট নীতি রয়েছে। তাই আমি আশা করি না, কোনোভাবেই আমরা এটি থেকে সরে যাব।’

তাইওয়ানের সঙ্গে চেক প্রজাতন্ত্রের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে তারা অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। বেইজিং তাইওয়ানকে ‘এক চীন’ নীতির অংশ বলে মনে করে এবং অন্যান্য দেশকে চীনের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি করে আসছে। তবে তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার চীনের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেছেন, ‘তাইওয়ানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেই। শুধু একজন স্থানীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক বিভাগের প্রধান রয়েছেন।’ ওয়াং বলেন, ‘এক চীন নীতি হলো চীনের সঙ্গে বিশ্বের সব দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পূর্বশর্ত ও রাজনৈতিক ভিত্তি। আমরা ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাইওয়ানের ইস্যুটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানাই। এছাড়া এক চীন নীতিতে চীনের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি মেনে চলা ও তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী শক্তিকে সমর্থন না করার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে কোনো নামেই তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক না করার জন্য অনুরোধ করছি।’

তাইওয়ান ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টিকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চীনা ওই মুখপাত্র। তিনি বলেন, ‘বিদেশীদের থেকে আত্মসম্মান অর্জনের যেকোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।’

সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, জোসেফ উ ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজধানী ব্রাসেলসেও সফর করবেন। এর আগে ২০২১ সালেও তাইওয়ান প্রতিনিধি সংক্ষিপ্ত সফরে ব্রাসেলসে গিয়েছিলেন। ওই যাত্রায় তিনি চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়ায়ও গিয়েছিলেন।

চেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেত্রো পাভেল নির্বাচিত হওয়ার পর পরই গত জানুয়ারিতে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন টেলিফোনে কথা বলেন। তাইওয়ানের জন্য এ ঘটনাকে কূটনৈতিক অভ্যুত্থান হিসেবে দেখা হয়, যা চীনকে ক্ষুব্ধ করেছিল।

চেক নিম্নকক্ষের স্পিকার মার্কেটা পেকারোভা অ্যাডামোভা গত মার্চে তাইওয়ানের আইনপ্রণেতাদের বলেছিলেন, তার দেশ এবং তাইওয়ান স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের দ্বারা একত্রে আবদ্ধ। তারা সর্বদা তাইওয়ানের জনগণের পাশে দাঁড়াবে।