প্রতিবেশী বেলারুশে কৌশলগত পরমাণু অস্ত্র পাঠানো শুরু করেছে রাশিয়া। এ ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। তারা বলছে, ওয়াশিংটন কয়েক দশক ধরেই ইউরোপে এ জাতীয় পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপন করে আসছে।
গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাশিয়া জানিয়েছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর নিজেদের সীমানার বাইরে এবারই প্রথম এ ধরনের অস্ত্র স্থাপন করতে যাচ্ছে তারা। বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো জানিয়েছেন, দেশটিতে এরই মধ্যে পরমাণু অস্ত্র পাঠানো শুরু হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মস্কোর এমন পদক্ষেপকে দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের উদাহরণ বলছে তারা। তাদের অভিযোগ, রাশিয়ার এমন পদক্ষেপ ১৯৬২ সালে কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র জটিলতার পর থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিপদের আভাস তৈরি করছে।
তবে তাদের প্রতিক্রিয়ায় পাত্তা দিচ্ছে না রাশিয়া। তারা বলছে, রাশিয়ার অবস্থানের অপব্যাখ্যা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের কার্যকলাপ আগে থেকেই অহরহ করে আসছে ওয়াশিংটন। তারা দশকের পর দশক ধরে এ ধরনের পরমাণু অস্ত্র ইউরোপের দেশগুলোতে পাঠিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রুশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে বলেছে, মস্কো এবং মিত্রদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চালানো হাইব্রিড যুদ্ধে নিজেদের নিরাপত্তায় এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়া রাশিয়া এবং বেলারুশের সার্বভৌম অধিকার। আমরা যা করছি তা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই করছি।
আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো মস্কো সফরকালে জানিয়েছেন, পুতিন পরমাণু অস্ত্র হস্তান্তরের একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন। মস্কো টাইমসের খবর বলছে, এ অনুযায়ী বেলারুশে পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপন করবে রাশিয়া। ইউক্রেন আগ্রাসনে সহায়তার অংশ হিসেবেই মস্কোকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী দেশটি।
উল্লেখ্য, কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র হলো এক ধরনের ক্ষুদ্র সক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক অস্ত্র। এগুলো বৃহদাকার পারমাণবিক অস্ত্রের তুলনায় সীমিত বিধ্বংসী।










