রাশিয়ার ফার ইস্টে ৪৯ আরোহী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী আন-২৪ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। গতকাল সাইবেরিয়াভিত্তিক আঙ্গারা এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজটি গন্তব্যে পৌঁছার কিছুক্ষণ আগে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর পরই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে নামে জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো। আঙ্গারা রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চল ও পূর্ব সাইবেরিয়াজুড়ে যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চালায়।

উড়োজাহাজটি ব্লাগোভেশচেনস্ক থেকে টিন্ডা যাচ্ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গন্তব্য থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বিধ্বস্ত হয়েছে উড়োজাহাজটি। বিবিসি জানায়, যেখানে উড়োজাহাজটি রাডার থেকে হারিয়ে যায় সেটি রাশিয়ার তাইগা বনভূমি অঞ্চলে পড়েছে। টিন্ডা শহরটি আমুর অঞ্চলের অন্তর্গত, এলাকাটি চীনের সীমান্ত লাগোয়া।

আমুর অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাসিলি অরলোভ এক বিবৃতিতে জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী উড়োজাহাজে পাঁচ শিশুসহ ৪৩ ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। তবে রাশিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের হিসাবে যাত্রী সংখ্যা ৪০। গভর্নর টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘উড়োজাহাজটি খোঁজার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্ধার ও অনুসন্ধান দল মোতায়েন করা হয়েছে।’ পরে এক বিবৃতিতে তিনি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘উড়োজাহাজের যাত্রীদের সবারই মৃত্যু হয়েছে।’

নিখোঁজ উড়োজাহাজটির খোঁজে অনুসন্ধানের সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ আমুর অঞ্চলের একটি দুর্গম বনাঞ্চলে পাওয়া যায় এবং সেখানে উড়োজাহাজের ফিউসেলাজে আগুন জ্বলছিল। পরে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও জরুরি বিভাগের হেলিকপ্টারসহ একাধিক উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার কারণ স্পষ্ট নয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।

১৯৫০-এর দশকে নির্মিত আন্তোনভ আন-২৪ উড়োজাহাজ সাধারণত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ব্যবহার হয়। রাশিয়ায় এখন সীমিত পরিসরে বাণিজ্যিকভাবে এ ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়। এখন পর্যন্ত এ মডেলের হাজারের বেশি উড়োজাহাজ তৈরি হয়েছে। আন-২৪ মডেলের এ ধরনের উড়োজাহাজ সাধারণত আঞ্চলিক রুটে ব্যবহার হয়, তবে এগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকেই প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকায় বিরূপ আবহাওয়া ও দুর্বল নেভিগেশন ব্যবস্থার মধ্যে এ ধরনের উড়োজাহাজকে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়।