ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের জন্য ‘বিশেষ উপহার’ নিয়ে যাচ্ছেন মোদি। বিশেষ এই উপহার হলো, বেশ কিছু শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব।
ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে নতুন বাণিজ্য চুক্তি আদায় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়। গত মেয়াদে মোদির সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলেও ট্রাম্প ভারতকে ‘বাণিজ্যে অন্যতম বড় শোষক’ বলে অভিহিত করেন। প্রসঙ্গত, মার্কিন-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি বর্তমানে ৪৫.৬ বিলিয়ন ডলার। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের গড় শুল্ক হার ২.২ শতাংশ হলেও ভারতে এটি ১২ শতাংশ।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, বৈঠকে তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, যুদ্ধযান ও জেট ইঞ্জিন ক্রয় বৃদ্ধি, পারমাণবিক শক্তিতে বিনিয়োগ এবং ১২টি খাতে শুল্ক হ্রাসের বিষয় উত্থাপিত হবে। ইলেকট্রনিক্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও রাসায়নিকসহ কয়েকটি সেক্টরে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এক কর্মকর্তা এটিকে ‘ট্রাম্পের জন্য উপহার’ বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে মোদি ট্রাম্পের কাছ থেকে বিলিয়নিয়ার গৌতম আদানির মামলায় সহায়তা চাইবেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। গত নভেম্বরে আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন বিচার বিভাগের দুর্নীতির অভিযোগকে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এছাড়া, জো বাইডেনের শাসনামলে মার্কিন ভূখণ্ডে এক শিখ কর্মীর হত্যার ষড়যন্ত্রে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার অভিযোগও আলোচনায় থাকতে পারে।
বৈঠকের নেপথ্যে থাকবে চীন ও রাশিয়া নিয়ে ভারতের কৌশলগত দ্বিধা। ট্রাম্প প্রশাসন চীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে দেখলেও, নয়া দিল্লি সরাসরি বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে নারাজ। পাশাপাশি, ইউক্রেন যুদ্ধ সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক সিএসআইএস-এর রিচার্ড রোসো পরিস্থিতির বর্ণনা করছেন এভাবে, ‘এটি একটি মুষ্টিযুদ্ধের মতো হবে। ভারত কিছু আঘাত নিতে প্রস্তুত, কিন্তু তার একটি সীমা আছে।’
মোদি মার্কিন উদ্যোক্তা ইলোন মাস্কের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। মাস্কের স্টারলিংক কোম্পানির ভারতীয় বাজারে প্রবেশের বিষয়টি আলোচনায় থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং ভূরাজনীতির নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসবে। তবে মোদির শুল্ক ছাড়ের ‘উপহার’ ট্রাম্পকে কতটা সন্তুষ্ট করতে পারে সেটা সময়ই বলবে।










