ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি গতকাল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) চুক্তির অংশ না হয়েও চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা সম্ভব। দেশটির সরকার চীনা প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত থাকা বা চুক্তি বাতিলের বিষয়টি যাচাইয়ের মধ্যেই এমন মন্তব্য করে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ইতালিই একমাত্র প্রধান পশ্চিমা দেশ, যারা চীনের বিআরআই প্রকল্পে যোগ দিয়েছে। প্রকল্পটি প্রাচীন সিল্ক রোড পুনর্নির্মাণ পরিকল্পনার একটি অংশ। এর মাধ্যমে চীনকে এশিয়া, ইউরোপ এবং এর বাইরের অঞ্চলের সঙ্গেও যুক্ত করা যায়।
জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘ইতালির এ প্রকল্পে অংশগ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলাফল এখনই বলা যাচ্ছে না। আমাদের মূল্যায়ন খুবই সংবেদনশীল এবং অনেক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে।’
ইতালি ২০১৯ সালে চীনের ‘রোড অ্যান্ড বেল্ট’ প্রকল্পে যুক্ত হয়। এর ফলে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় দেশটিকে। বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালের মার্চে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি নবায়ন হবে। তবে চুক্তি বাতিল করতে হলে তিন মাস আগেই উভয় পক্ষ বিষয়টি অবহিত করবে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার আগে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলোনি স্পষ্ট করেছিলেন, তিনি ২০১৯ সালের এ পদক্ষেপকে অস্বীকার করেছেন। ওই সময় তিনি বলেন, ‘ইতালি বা ইউরোপে চীনের সম্প্রসারণের পক্ষে তার কোনো রাজনৈতিক সমর্থন নেই।’ মেলোনি উল্লেখ করেন, জি৭ গ্রুপের মধ্যে ইতালিই একমাত্র দেশ যে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ স্মারকপত্রে সই করেছে। কিন্তু এটি ইউরোপীয় এবং পশ্চিমা এমন কোনো দেশ নয় যাদের সঙ্গে চীনের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব। কিন্তু এক্ষেত্রে চীনের সামগ্রিক কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকা জরুরি নয়।’
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইতালির এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম।
জি৭ গ্রুপের অধিকাংশ দেশের জন্য, বিশেষ করে জাপান ও জার্মানির মতো রফতানির ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতির জন্য চীন সবচেয়ে বড় বাজার। গত সপ্তাহান্তে এক শীর্ষ সম্মেলনে জি৭ নেতারা চীনের সঙ্গে ‘বিচ্ছিন্নতা’ ছাড়াই ঝুঁকি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।










