গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছে ১৩২ ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। সেফজোন খ্যাত মাওয়াসির আশ্রয় শিবির লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেখানে নিহত হয়েছেন ৩৪ জন। খবর আল জাজিরা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, রোববার (১৮ মে) ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় গাজা, উত্তর গাজা ও গাজার মধ্যাঞ্চলীয় এলাকায় এ হতাহতের ঘটনাগুলো ঘটেছে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৪৬৪ জনে।

হাসপাতালের আহতদের লক্ষ্য করেও গুলি ছুঁড়ছে ইসরায়েলি সেনারা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে কেউ নড়াচড়া করলেও গুলি করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তীব্র হামলা ও অবরোধের কারণে হাসপাতালটি সেবা দিতে পারছে না।

ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের পরিচালক মারওয়ান আল-সুলতান বলেন, ‘হাসপাতালটি বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর অবরোধের মধ্যে রয়েছে এবং কেউ নড়াচড়া করলেই গুলি করা হচ্ছে। এমনকি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটও (আইসিইউ) গুলির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, হাসপাতাল আর কোনো সেবা দিতে পারছে না। অবিলম্বে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান হাসপাতালের পরিচালক।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে বেইত হানুন হাসপাতাল ও কামাল আদওয়ান হাসপাতাল ধ্বংস করে দেয় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। এবার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতাল অবরোধের মাধ্যমে উত্তর গাজার সবগুলো হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দিল আইডিএফ।

এদিকে গতকাল শনিবার থেকে কাতারের দোহায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে বলেছে, গতকাল থেকে চলমান আলোচনায় এখনো পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। উভয় পক্ষই নিজেদের আগের অবস্থানে অনড় রয়েছে।