হামাস-ইসরায়েল সংঘাত দুই মাস ছাড়িয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় গাজায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। বিপর্যয়কর এ পরিস্থিতিতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উঠেছে জাতিসংঘে। গতকাল শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) নিরাপত্তা পরিষদে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্স।
সাময়িক যুদ্ধবিরতির পর গত ১ ডিসেম্বর থেকে
গাজার দক্ষিণাঞ্চলে হামলা আরো জোরদার করেছে ইসরায়েল। প্রতিদিন নিহত হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা।
তবে মৃতের সংখ্যা উল্লেখ না করে রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবারও আইডিএফের গুলিতে
প্রাণ হারিয়েছে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি।
এদিন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস
বলেন, গাজার মানবিক পরিস্থিতি দুঃস্বপ্নের মতো। সেখানকার বাসিন্দারা কোথাও নিরাপদ নয়।
এরপর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এলে যুক্তরাষ্ট্র
ভেটো দেয়। এ ভোটের ফলে ওয়াশিংটন ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে কূটনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন
হয়ে পড়ে। পরিষদে ১৩ সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রস্তাবিত খসড়ার পক্ষে ভোট দেয়। অন্যদিকে
যুক্তরাজ্য ভোট থেকে বিরত ছিল।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট
উড বলেন, আমরা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বাসী নই। এ সমাধানে পরবর্তী যুদ্ধের বীজ রয়ে
যায়। বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করছে। এই দুদেশ
মনে করে যুদ্ধবিরতির ফলে কেবলমাত্র হামাসই উপকৃত হয়।
এর আগে কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় সাতদিনের
একটি মানবিক বিরতি চুক্তিকে সমর্থিন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যার বিনিময়ে হামাস উল্লেখযোগ্য
পরিমাণ জিম্মিকে মুক্তি দেয়। ইসরায়েলি কারাগার থেকেও মুক্ত হয়েছিল শতাধিক ফিলিস্তিনি।
তবে বরাবরই ‘যুদ্ধবিরতি’ শব্দটি এড়িয়ে
গেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকালের আগেও একাধিবার এ প্রসঙ্গে তাদের অবস্থান ছিল নেতিবাচক।
এদিকে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত
ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বেড়ে ১৭ হাজার ৪৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে
৪৬ হাজার ৪৮০ জন। গতকাল শুক্রবার গাজায় হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
আশরাফ আল-কুদরা এ তথ্য দেন। এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শুধু গত কয়েক ঘণ্টায় ৩৫০ জন
নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। আরো অনেক লোক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।









