শিগগিরই ড্রোনের মাধ্যমে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহের পরীক্ষায় নামছে অ্যামাজন। গতকাল বুধবার (১৮ অক্টোবর) এ ই-কমার্স জায়ান্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের কলেজ স্টেশনের গ্রাহকরা এখন অর্ডার দেয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ওষুধ পাবেন। খবর এপি।

ডেলিভারি সেন্টার থেকে প্রোগ্রাম করা ড্রোনটি গ্রাহকের ঠিকানায় এসে প্রায় চার মিটার বা ১৩ ফুট উচ্চতায় নামবে। এরপর প্যাডে মোড়ানো প্যাকেজটি সুবিধাজনক স্থানে ফেলে যাবে।

অ্যামাজন বলছে, গ্রাহকরা ৫০০টিরও বেশি ওষুধ থেকে নিজের দরকারিটি বেছে নিতে পারবে। তালিকায় ফ্লু বা নিউমোনিয়ার মতো সাধারণ চিকিৎসার ওষুধ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে বিশেষায়িত ক্ষেত্র আপাতত থাকছে না।

অ্যামাজনের প্রাইম এয়ার বিভাগ গত ডিসেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়ার কলেজ স্টেশন ও লকফোর্ডে সাধারণ গৃহস্থালি পণ্যের ড্রোন সরবরাহের পরীক্ষা শুরু করে। সংস্থার মুখপাত্র জেসিকা বারদৌলাস জানান, সেবাটি চালু করার পর থেকে হাজার হাজার অর্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। গ্রাহকের অনুরোধের ভিত্তিতে এখন প্রেসক্রিপশন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল অ্যামাজন জানায়, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ তৃতীয় মার্কিন গন্তব্য এবং ইতালি ও যুক্তরাজ্যের শহরে ড্রোন ডেলিভারি চালু হবে। আগামী মাসে গন্তব্যগুলোর নাম প্রকাশ করবে।

অবশ্য ড্রোনের ওষুধ ডেলিভারি করা প্রথম কোম্পানি নয় অ্যামাজন। ২০১৯ সালে ওষুধ বিক্রেতা চেইন সিভিএস হেলথ উত্তর ক্যারোলিনায় কুরিয়ার সেবাদানকারী ইউপিএসের সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করেছিল। তবে এ পরীক্ষা মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

ইন্টারমাউন্টেন হেলথ ২০২১ সালে সল্ট লেক সিটিতে ড্রোনের মাধ্যমে ওষুধ সরবরাহ শুরু করে। সংস্থাটির সাপ্লাই চেইন ডিরেক্টর ড্যানিয়েল ডুয়ার্সের জানান, এ প্রকল্প সম্প্রসারিত করা হয়েছে। তারা ড্রোন ব্যবহার করার জন্য লজিস্টিক কোম্পানি জিপলাইনের অংশীদার। সংস্থাটির ড্রোন প্যারাসুটের মাধ্যমে প্যাকেজ ফেলে আসে।

তবে এখনো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ড্রোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছু বাধা রয়েছে। আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এক দশক আগে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ২০১৮ সালের মধ্যে ডেলিভারির কাজ করবে ড্রোন। যদিও ই-কমার্স জায়ান্টটি অল্প সংখ্যক বাজারে এ প্রযুক্তি চালু করতে পেরেছে।

কমার্শিয়াল ড্রোন অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক লিসা এলম্যান জানান, নিয়ন্ত্রকরা অনুমোদনে ধীরে ধীরে ছাড় দিচ্ছে। যেমন; গত মাসে এফএএ জিপলাইন ও ইউপিএসকে দূরপাল্লার ড্রোন উড়ানোর অনুমোদন পেয়েছে।

আরেক খুচরো বিক্রেতা জায়ান্ট ওয়ালমার্ট সম্প্রতি নিজস্ব ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণে কাজ করছে।

বুধবারকাল অ্যামাজন এমকে৩০ নামে নতুন একটি ড্রোন উন্মোচন করা হয়েছে। যা আগামী বছরের শেষ নাগাদ বর্তমানে ব্যবহৃত ড্রোনের স্থলাভিষিক্ত হবে। সংস্থাটি বলেছে, নতুন ড্রোনটি ছোট, নির্ঝঞ্ঝাট ও ডেলিভারি ক্ষমতা আরো উন্নত।

অ্যামাজন জানায়, তাদের ড্রোন গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছানোর পর ধীরে ধীরে নামার আগে ১২০ মিটার বা প্রায় ৪০০ ফুট পর্যন্ত উড়ে যাবে স্থান নির্বাচন করবে। প্যাকেজ ড্রপ করার আগে দেখে নেবে পোষা প্রাণী, শিশু বা অন্য কোনো বাধা আছে কিনা।

গত কয়েক ধরে চিকিৎসা ক্ষেত্রে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে অ্যামাজন। শুধু ফার্মেসিই যুক্ত করেনি পরিষেবা, প্রাথমিক যত্ন প্রদানকারী ওয়ান মেডিকেল কিনতে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। গত আগস্টে ৫০টি রাজ্যে ভিডিও টেলিমেডিসিন ভিজিট যোগ করেছে তারা।