জার্মান ট্যুর এজেন্সি ওয়ান্ডারমুটের
স্লোগান হলো, ‘যেখানে কেউ যায় না আমরা সেখানে যাই’। কিন্তু কিছু
জায়গা অনাবিষ্কৃত রাখাই তো ভালো- এ কথা বলছেন সমালোচকরা।
দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, পানামার
জঙ্গলে দশ দিনের ট্যুর আয়োজন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে সংস্থাটি। তারা ভ্রমণের জন্য
বেছে নিয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুটগুলোর একটি।
ওয়ান্ডারমুট জানায়, দারিয়েন গ্যাপে ভ্রমণের
মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম আদিম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার সুযোগ
করে দিচ্ছে তারা। প্রচার উপকরণে বলছে, আমাদের গন্তব্যে পৌঁছা ও পুরো সফর অনিশ্চয়তায়
ভরা।
কলম্বিয়া ও পানামার মধ্যে বিস্তৃত শত
মাইল জঙ্গলের মাঝে দারিয়েন গ্যাপের অবস্থান। অবিশ্বাস্য এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে রয়েছে
জলপ্রপাত, অগণিত স্থানীয় প্রজাতি ও স্ফটিক-স্বচ্ছ স্রোত।
একইসঙ্গে দুর্গম ও উন্নয়নের ছোঁয়া না পাওয়া
এই অঞ্চল মাদক পাচারকারী মিলিশিয়া, সশস্ত্র ডাকাত ও যুক্তরাষ্ট্রগামী অভিবাসন প্রত্যাশীদের
আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অনুপস্থিত ও ব্যাপক অপরাধের
কারণে দারিয়েনের যেকোনো অংশে পর্যটন বিপজ্জনক। জলাভূমিময় এই কুখ্যাত ও প্রত্যন্ত অঞ্চল
নিয়ে জার্মান সংস্থার পরিকল্পনা নিয়ে ক্ষুদ্ধ পানামায় ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন
অব মাইগ্রেশনের প্রধান মিশন জিউসেপ লোপ্রেতে।
তিনি বলেন, এখানে কোনো রাস্তা নেই। সীমান্ত
কর্তৃপক্ষের জন্য প্রবেশ খুবই বিপজ্জনক। মানবিক সাহায্য নিয়ে আসা তো আরো কঠিন। এমনকি
পানামার মতো সম্পূর্ণভাবে সজ্জিত ও প্রশিক্ষিত সীমান্ত কর্তৃপক্ষ একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল
পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে।
এ ছাড়া খবর ছড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই
নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, প্রথম বিশ্বের বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত লোকেরা কলম্বিয়ায়
অভিবাসীদের মৃতদেহপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ করছেন।
২০২২ সালে এই পথে রেকর্ড আড়াই লাখ অভিবাসন
প্রত্যাশী যাতায়াত করেছেন। যাদের বেশিরভাগই ল্যাটিন আমেরিকান। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক
আফগানিস্তান ও চীনের নাগরিক ছিলেন। তাদের সবার চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র।










