ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ওপর আরেকটি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পর হুথিরাও শক্তিশালী ও কার্যকর জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইয়েমেনে মিলিশিয়া গোষ্ঠীটির ব্যবহৃত কয়েক ডজন স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এর একদিন পর সর্বশেষ হামলাটি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্স।
ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর আক্রমণ থেকে জাহাজকে রক্ষা করার ওয়াশিংটনের অঙ্গীকারের পর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরো বেড়েছে। এদিকে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের হামলার ফলে অঞ্চলটিতে উদ্বেগ আবারো বেড়েছে।
গত শুক্রবার পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের হামলার ইতিবাচক প্রভাবের কথা জানালেও, হুথিদের বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র নাসরুদ্দিন আমের আল জাজিরাকে জানায়, এ নতুন হামলার একটি শক্তিশালী ও কার্যকর জবাব দেয়া হবে। হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আরেক মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুল সালাম রয়টার্সকে জানান, সাম্প্রতিক হামলা সত্ত্বেও লোহিত সাগর ও আরব সাগরের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলো থামাতে তাদের সামর্থ্যকে কোনোভাবে প্রভাবিত করেনি।
হুথিরা বলছে, ইরান সমর্থিত হামাস শাসিত গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ও হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সমর্থন করাই তাদের সামুদ্রিক অভিযানের মূল লক্ষ্য। তবে তারা যেসব জাহাজকে টার্গেট করেছে তাদের অনেকগুলোরই ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
সানা ও ইয়েমেনের পশ্চিম ও উত্তরের বেশির ভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণকারী হুথি বিদ্রোহীদের গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের দিকে লোহিত সাগরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার কার্নি ইয়েমেনের স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এ হামলা চালানোর লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্যিকসহ সামুদ্রিক জাহাজে হামলা চালানোর হুথি বিদ্রোহীদের সক্ষমতা কমিয়ে আনা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হুথিদের বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখলে আরো হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জন কিরবি জানান, প্রাথমিকভাবে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালানোর ক্ষমতাকে ধ্বংস করার জন্য এ হামলাগুলো চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার ওয়াশিংটনের কোনো আগ্রহ নেই।










