যুক্তরাজ্যের চাকরির বাজারে আবারো ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ওএনএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে টানা সপ্তম মাসের মত দেশটিতে বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে এবং বেতন বৃদ্ধির হারও কমেছে। তবে এ প্রবণতা ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের জন্য মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স

অনেক কোম্পানি ‘নিয়োগে সতর্কতার কারণ’ হিসেবে অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভসের কর বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। আবার, অনেক কোম্পানি পরবর্তী বাজেটে আরো কর বৃদ্ধির আশঙ্কায় নিয়োগ স্থগিত রাখছে। কেপিএমজি ইউকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়ায়েল সেলফিনের মতে, ‘কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হয়তো নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছে যতক্ষণ না সম্ভাব্য কর পরিবর্তন নিয়ে আরো স্পষ্টতা আসে।’

এদিকে, দেশটিতে টানা সপ্তম মাসের মত পে-রোলে থাকা কর্মীদের সংখ্যা আরো কমেছে। সবমিলিয়ে এ অবস্থা ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক পতনেরই অংশ। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী আগস্ট মাসে কোম্পানিগুলোর পে-রোলে থাকা কর্মীর সংখ্যা জুলাইয়ের তুলনায় কমেছে আট হাজারের বেশি। অবশ্য জুলাইয়ের আগের রিপোর্টে এ সংখ্যা আট হাজার হ্রাস পেয়েছে বলা হলেও পরে তা সংশোধন করে ছয় হাজার করা হয়েছিল।

মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে বেকারত্বের হার কমে এখন ৪ দশমিক ৭ শতাংশ স্থির রয়েছে। এটি ২০২১ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের পর সর্বোচ্চ হলেও একই সঙ্গে পূর্ববর্তী মাসের হার (৪ দশমিক ৮ শতাংশ) থেকে কম। ফলে মোট গড় সাপ্তাহিক উপার্জন (বোনাস বাদে) কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ হার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এখনো বেশি। আবার, আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে চাকরির শূন্যপদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২৮ হাজার, যা ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থা থেকে কিছুটা উন্নতি। এ বৃদ্ধির খবর নিয়োগ পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।

এ প্রসঙ্গে ডয়চে ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় রাজা বলেন, ‘স্টাফ ছাঁটাইয়ের ঢেউ সম্ভবত শেষ হয়েছে। তবে বাজেট অনিশ্চয়তা নিয়োগে প্রভাব ফেলবে এবং বেতন চুক্তি আরো কমতে পারে।’

ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের অর্থনীতিবিদ এশলে ওয়েব বলেন, ‘এ তথ্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ কমাবে না।’

সবমিলিয়ে, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক অব ইংল্যান্ড’ (বিওই) মুদ্রাস্ফীতির বিষয়ে উদ্বিগ্ন। এজন্য তারা সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা করছে।