তৃতীয় মেয়াদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিসেপ
তাইয়েপ এরদোয়ান। দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে ৫২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত
হলেন তিনি। যদিও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে এরদোয়ানের বিজয়ের ঘোষণা আসেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয়
সংবাদসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এরদোয়ানের জয়ের কথা নিশ্চিত করেছে।
সংবাদ সংস্থাটি বলেছে, ৯৭ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে।
এরপর এরদোয়ান ৫২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী
কেমাল কিলিচদারোগলু পেয়েছেন ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এদিকে পরবর্তীতে এরদোয়ানও তার বিজয় দাবি
করেছেন এবং সমর্থকদের উদ্দেশে গান গেয়ে ভাষণ দিয়েছেন।
এরদোয়ান বলেন, এই জয় সাড়ে আট কোটি নাগরিকের। আগামী পাঁচ
বছরের জন্য তুরস্ক শাসনের দায়িত্ব আবারও আমাদের হাতে দেওয়ার জন্য জাতির প্রতিটি নাগরিককে
ধন্যবাদ জানাই।
এরদোয়ান আরো বলেন, জনগণের সমর্থনে আমরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের
দ্বিতীয় দফা সম্পন্ন করেছি। নির্বাচনের মাধ্যমে গনতন্ত্রের উৎসব উদ্যাপনের জন্য জনগণের
জন্য তুরুস্কের জনগণকের ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা আপনাদের আস্থাবান থাকব,
ঠিক যেভাবে আমরা ২১ বছর ধরে আস্থাবান আছি।
এরদোয়ানের জয়ে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা তাকে
অভিনন্দন জানানো শুরু করেছেন। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি নতুন করে তুরস্কের
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় এরদোয়ানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ এ বিজয়কে এরদোয়ানের
সফলতা ও নীতির প্রতি তুরস্কের জনগণের আস্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী
এরদোয়ানের তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়াকে প্রশ্নাতীত বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিও এরদোয়ানকে অভিনন্দন
জানিয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিন, আজারবাইজান, সার্বিয়া থেকেও এরদোয়ানকে অভিনন্দন জানানো
হয়েছে।
আজ রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় তুরস্কে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের
দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এই ভোট গ্রহণ চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
নিয়ম অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে প্রার্থীকে ৫০ শতাংশ ভোট পেতে হয়। ১৪ মে অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের ভোটে এগিয়ে থাকলেও নির্বাচিত হতে পারেননি বর্তমানে ক্ষমতাসীন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। অল্পের জন্য তাঁর ভাগ্য ঝুলে যায়। প্রথম দফার নির্বাচনে তিনি পেয়েছিলেন ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে এই নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কেমাল কিলিচদারোগলু পেয়েছিলেন ৪৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট। ফলে দেশটির নিয়ম অনুযায়ী আজ পুনরায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলো।










