পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছাড়াই দুর্বল পর্বতারোহীদের মাউন্ট এভারেস্টে নিয়ে যাওয়ায় মৃত্যু ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। এক প্রবীণ শেরপা বলেছেন, এভারেস্ট আরোহণের মৌসুমই এখন বছরের সবচেয়ে মৃত্যুপ্রবণ মৌসুমের একটিতে পরিণত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্টে মৃ্ত্যুর ঝুঁকি বাড়ছেই। বছরের মূল আরোহণ মৌসুম শেষে দেখা গেছে অন্তত ১২ জন নিহত এবং পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন, যা ২০০৫ সালে ভূমিকম্প ও তুষারপাতের ফলে ১৮ জন পর্বতারোহী নিহত হওয়ার ঘটনার পর সবচেয়ে মারাত্মক। ফলে প্রশ্ন এসেছে কেন এত দুর্ঘটনা?
‘দুর্বল পর্বতারোহী’ ও ‘স্বল্প অভিজ্ঞ অপারেটর’ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন পাঁচবারের এভারেস্ট আরোহণকারী নিউজিল্যান্ডের বিখ্যাত গাইড গাই কটার। তাই এভারেস্টে আরোহণ করতে আসার আগে আগ্রহী ব্যক্তির ন্যূনতম পর্বতারোহণের অভিজ্ঞতা থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
সরকার ও হাইকিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্বত থেকে খসে যাওয়া বরফের ধাক্কায় এপ্রিলে তিন শেরপা পর্বতারোহী মারা গিয়েছেন। বাকিরা অসুস্থতা বা ক্লান্তিতে মারা গিয়েছিলেন।
নেপাল সরকার এভারেস্ট এবং এর অন্যান্য হিমালয় পর্বতশৃঙ্গের আরোহণ পরিচালনা করে, যাতে প্রত্যেকে পর্বতারোহণের সুযোগ পায়। তবে গাই কটার মনে করেন, যেসব অপারেটর ক্লায়েন্টদের পাহাড়ে গাইড করে তাদের ন্যূনতম মানসম্পন্ন সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিশ্চিত করা উচিত। তিনি বলেন, ‘অনেক অপারেটর আছে, যারা ক্লায়েন্টদের এভারেস্টে নিয়ে যায় কিন্তু জানে না কীভাবে দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এমনকি যখন ভুল কিছু ঘটে যায়, তখন সমস্যাগুলো সমাধান করার মতো কোনো পদ্ধতিও তাদের জানা থাকে না।’
নেপালে পর্বত আরোহণের তত্ত্বাবধান করেন পর্যটন বিভাগের এমন একজন কর্মকর্তা বিগ্যান কৈরালা। তিনি জানিয়েছেন, সরকার আরো নিয়মকানুন তৈরি করছে, তবে বিস্তারিত জানায়নি। চলতি বছর নেপাল রেকর্ড সংখ্যক ৪৭৮টি অনুমতিপত্র দিয়েছে এবং এরই মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেছেন।










