ভাড়াটে যোদ্ধা ভাগনার বাহিনীর সাম্প্রতিক বিদ্রোহের ঘটনায় নিজ ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে ভাগনার প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন তার সৈন্যদের ইউক্রেন থেকে সরিয়ে মস্কো অভিমুখে যাত্রার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ-অন-ডন শহরের সামরিক দপ্তরগুলো। তবে দ্রুতই ক্রেমলিনের সঙ্গে এক চুক্তির মাধ্যমে পশ্চাদপসরণ করে ভাগনার বাহিনী। পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোর মধ্যস্থতায় এ সংকটের সমাপ্তি ঘটে। আপাতদৃষ্টিতে স্বল্পকালীন এ সংকটের সুষ্ঠু সমাধান হলেও এ সময়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সংক্ষিপ্ত এ বিদ্রোহের ঘটনায় রুশ সামরিক বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যে দুর্বলতা রয়েছে, তা প্রকাশ্যে এসেছে। ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের অধীনে ভা়গনার বাহিনীর সৈন্যরা রাশিয়ার রোস্তভ-অন-ডন শহরে অবাধে চলাচল করতে সক্ষম হয়েছিল। মস্কো অভিমুখে শত শত কিলোমিটার এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল। এ সময়ে রুশ সেনাবাহিনী রাজধানী রক্ষার জন্য ছুটে আসতে বাধ্য হয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সম্প্রতি প্রিগোজিনের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি ঘোষণা করেছেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী রাশিয়ায় অবস্থান করতে পারবেন না প্রিগোজিন। বেলারুশে নির্বাসিত হচ্ছেন তিনি ও তার বাহিনী। যদিও পুতিন শপথ করে বলেছিলেন, সশস্ত্র বিদ্রোহের পেছনে যারা ছিলেন তাদের শাস্তি দেবেন। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধে বিশেষ অবদান বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে রাশিয়ার আনা সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগ প্রত্যাহার করা হবে। বিদ্রোহে অংশ নেয়া সৈন্যদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হবে না। যারা যোগ দেয়নি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের সঙ্গে নতুন চুক্তি করবে।
চুক্তির পর প্রিগোজিন তার সৈন্যদের ইউক্রেনের ক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন, যেখানে তারা রুশ সৈন্যদের সঙ্গে লড়াই করছে। এর আগে পুতিন সশস্ত্র বিদ্রোহের পেছনে যারা রয়েছে তাদের শাস্তি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে তিনি বিদ্রোহকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেন।
পেসকভ জানিয়েছেন, প্রিগোজিন ও তার বাহিনীকে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেয়ার ক্ষেত্রে পুতিনের লক্ষ্য ছিল অপ্রত্যাশিত ফলাফলের সঙ্গে রক্তপাত ও অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ এড়ানো। কিছু পর্যবেক্ষক বলেছেন, এ ঘটনায় পুতিনের শক্তিশালী ব্যক্তিত্ত্বের ভাবমূর্তি খর্ব হয়েছে। ইউক্রেনে দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন অ্যাম্বাসেডর জন হারবস্ট সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এতে পুতিন চিরকালের জন্য ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছেন।’
ভাগনার বাহিনীর হুমকির পর মস্কো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরালো করেছিল। চেচেনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ইউক্রেনের যুদ্ধ থেকে প্রায় তিন হাজার চেচেন সৈন্যকে সরিয়ে শনিবার সকালে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মেশিনগান দিয়ে সজ্জিত রুশ সৈন্যরা মস্কোর দক্ষিণ প্রান্তে চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে। প্রিগোজিনের মতে, ভাগনারের সৈন্যরা মস্কো থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার এগিয়ে গেছে। কিন্তু চুক্তির পর তিনি রাশিয়ার রক্তপাত এড়ানোর জন্য পিছু হটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রিগোজিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর অপসারণের দাবি জানিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ পরিচালনা বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে আসছেন প্রিগোজিন। শুক্রবার তিনি শোইগুর নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে ওয়াগনার শিবির আক্রমণ ও বিপুলসংখ্যক ওয়াগনার সদস্যকে হত্যার অভিযোগ তোলেন।










