ঘুষের মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে তাকে। খবর আল জাজিরা।
শুক্রবার দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। ৭৩ বছর বয়সী মোরেনো ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
দেশটির সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎকেন্দ্র কোকা কোডো সিনক্লেয়ার নির্মাণ প্রকল্পকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে ২০২৩ সালের মার্চে তদন্ত শুরু করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। তদন্তে মোরেনো, তার পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় ও চীনা ব্যবসায়িক অংশীদারদের একটি অভিযোগকৃত দুর্নীতি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
রায়ের সময় আদালতের ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল কাবরেরা বলেন, মোরেনোর কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মকর্তার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভুয়া পরামর্শক চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, বিদেশী ব্যাংক হিসাব ও ট্যাক্স হ্যাভেন বা করস্বর্গে নিবন্ধিত বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ অর্থ মোরেনোর পরিবার ও সহযোগীদের কাছে পৌঁছায়।
মোরেনো ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ স্বজনরা ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কৌঁসুলিরা।
মোরেনো অবশ্য শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর বা তদারকিতে তার কোনো ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেছেন তিনি। আদালতে শুনানির সময় মোরেনো বলেন, তদন্তকারীরা ভুল জায়গায় খুঁজছেন এবং যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন ও ঘুষ দাবি করতেন, তাদের দিকে নজর দেয়া উচিত।
মামলায় মোরেনোর স্ত্রী ও মেয়ে এবং তার দুই ভাই ও তাদের স্ত্রীকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে এ-সংক্রান্ত মামলায় কিটোতে চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত কাই রুংগুওকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।










