নেপালে পশ্চিমাঞ্চলীয় জাজারকোটে শক্তিশালী
ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে কমপক্ষে ১২৮ জন হয়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন
দেশটির কর্মকর্তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শুক্রবারের (৩ নভেম্বর) ওই কম্পনে
বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ভারতের নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে পর্যন্ত ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।
খবর রয়টার্স।
দেশটির ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সেন্টার
জানিয়েছে যে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪। তবে জার্মান রিসার্চ
সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) মাত্রা নামিয়ে ৫ দশমিক ৭ করেছে এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক
জরিপ সংস্থা বলছে ৫ দশমিক ৬ মাত্রা।
ভূমিকম্প উপদ্রুত অঞ্চলটি রাজধানী কাঠমান্ডু
থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের
কাছাকাছি এলাকায় যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পার্বত্য জেলার গ্রামগুলো দূরবর্তী পাহাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে
আছে। ওই এলাকার জনসংখ্যা এক লাখ ৯০ হাজার।
জাজারকোট জেলা কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র
শর্মা রয়টার্সকে বলেছেন, আহতের সংখ্যা কয়েকশ হতে পারে এবং মৃতের সংখ্যাও বাড়তে পারে।
পুলিশের মুখপাত্র কুবের কাদায়ত জানিয়েছেন,
জাজারকোটে ৯২ জন ও রুকুম জেলায় ৩৬ জন নিহত হয়েছেন।
রুকুমে কমপক্ষে ৮৫ জন ও জাজারকোটে ৫৫
জন আহত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, কমপক্ষে ৫০ জন জাজারকোটের
হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রুকুম জেলার পুলিশ কর্মকর্তা নামরাজ
ভট্টরাই জানান, উদ্ধার ও অনুসন্ধান দলগুলো ভূমিধসের কারণে সড়ক ব্যবহার করতে পারছে না।
তাদের পৌঁছাতে হলে অবরুদ্ধ সড়ক পরিষ্কার করতে হবে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল রামিডান্ডা
এলাকায়। তবে সেখানে এখনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পৌঁছাতে পারেনি।
এ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রী
পুষ্প কমল দাহাল গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। নিরাপত্তা সংস্থাকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও ত্রাণ
তৎপরতা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
২০১৫ সালের পর থেকে এই ভূমিকম্প সবচেয়ে
মারাত্মক। হিমালয়ের পাদদেশে দুটি ভূমিকম্পে ওই বছর প্রায় নয় হাজার মানুষ মারা যায়।
শহর, শতাব্দী প্রাচীন মন্দির ও অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।
এক লাখেরও বেশি বাড়ি ধসে পড়ে। ওই ভূমিকম্পের অর্থনৈতিক ক্ষতি ছিল ৬০০ কোটি ডলার।










