ইউরোপে ন্যাটোর সামরিক প্রধানের দায়িত্বে থাকবেন একজন মার্কিন জেনারেল—এ অলিখিত ঐতিহ্য এবারো বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনজন মার্কিন কর্মকর্তা, একজন পশ্চিমা কূটনীতিক ও ন্যাটোর একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
রয়টার্স বলছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এ সিদ্ধান্ত ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটেকে জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, হোয়াইট হাউজ ও ন্যাটো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। এমন সিদ্ধান্তের ফলে ন্যাটোর ইউরোপীয় মিত্রদের পাশাপাশি ট্রাম্পপন্থী রিপাবলিকানরাও স্বস্তি পেয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইউরোপ নিয়ে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং ন্যাটো থেকে মার্কিন নেতৃত্ব প্রত্যাহারের শঙ্কার মধ্যে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামীতে সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার ইউরোপ (স্যাকুলার) ও ইউএস ইউরোপিয়ান কমান্ড (ইউকম) হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মার্কিন এয়ারফোর্সের লেফটেন্যান্ট জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনক্যাভিচের। স্যাকুলার ন্যাটোর সামরিক শাখার সর্বোচ্চ পদ। ইউকমের দায়িত্ব হলো ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ও স্বার্থ রক্ষা করা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্যাকুলার পদটি প্রবর্তন করা হয়। ১৯৫১ সালে জেনারেল আইজেনহাওয়ার প্রথম এ পদে নিযুক্ত হন। তখন থেকেই পদটিতে সবসময় একজন মার্কিন জেনারেল নিযুক্ত হয়ে আসছেন।
আগামীতে স্যাকুলার ও ইউকমের প্রধান হতে যাওয়া জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনক্যাভিচ এখন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের অপারেশনস পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রিনক্যাভিচ জেনারেল ক্রিস্টোফার ক্যাভোলির স্থলাভিষিক্ত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর ক্যাভোলি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং কিয়েভে বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন সামরিক সহায়তা তদারকি করেন।
গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে চাপ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার প্রশাসনের বার্তা—ইউরোপের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। প্রশাসনের ভেতর এ নিয়েও আলোচনা হয়েছে যে ন্যাটোর সর্বাধিনায়কের পদ কোনো ইউরোপীয় দেশকে দেয়া যেতে পারে কিনা। তবে এরই মধ্যে ন্যাটোয় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাকে নিয়োগের তথ্য সেসব দুশ্চিন্তাকে আপাতত চাপা দিয়েছে। যদিও বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়, তা সত্ত্বেও এ সিদ্ধান্তকে তার মিত্র দেশগুলো স্বাগত জানাবে বলে মনে করা হচ্ছে।










