ভূমিকম্পে প্রায় দুই হাজার মানুষের
মৃত্যুর পর তৃতীয় দফায় কেঁপে উঠল আফগানিস্তান। আগের দুই কম্পনের মতোই এবার রিখটার স্কেলে
কম্পন ছিল ৬ দশমিক ৩ মাত্রার। খবর বিবিসি।
আজ রোববার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ইউএস
জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) বলছে, হেরাত শহরের কাছে ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পটি
আঘাত হানে। এর উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্টের ৬ দশমিক ৩ কিলোমিটার গভীরে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের
কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ইউএসজিএস বলেছে, সর্বশেষ কম্পনের কেন্দ্রস্থল
ছিল ইরানের সীমান্তের কাছে আফগানিস্তানের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হেরাত থেকে ৩০ কিলোমিটার
উত্তর-পশ্চিমে।
গত ৭ অক্টোবর সংঘটিত ভূমিকম্পকে কয়েক
দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প বলে অভিহিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির অসহায়
মানুষদের ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
তালেবান সরকারের দেয়া তথ্য অনুসারে,
ওই ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় দুই হাজার মানুষ। হতাহতদের মধ্যে ৯০ শতাংশ নারী
ও শিশু বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা।
এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার
বাড়ি। এর প্রভাবে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয় অনেককে। এরপর গত ১১ অক্টোবর আরেক
দফা কেঁপে উঠে হেরাত।
সব মিলিয়ে ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ অতিক্রম
হলেও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি আফগান সরকার।
জাতিসংঘের মতে, আফগানিস্তান বর্তমানে
মানবিক ও শিশু অধিকার সংকটে শীর্ষ একটি দেশ। এ পরিস্থিতিতে ভূমিকম্প নতুন করে সংকট
তৈরি করেছে।
আফগানিস্তানে নিযুক্ত ইউনিসেফের ফিল্ড
অফিসার সিদ্দিক ইব্রাহিম গত শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) সিএনএনের সঙ্গে আলাপে বলেন, দেশটি
গত কয়েক দশকের মধ্যে ভূমিকম্পের এমন ভয়াবহতার সম্মুখীন হয়নি।
যুদ্ধাবস্থা ও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে
উঠতে না উঠতেই আফগানিস্তান এখন ভয়ংকর মানবিক সংকটের মুখোমুখি। নতুন এ সংকট মোকাবেলায়
দেশটি পর্যাপ্ত বৈশ্বিক সাহায্য পাচ্ছে না।
এছাড়া আসছে শীতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে
পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্রসহ খাবার ও স্বাস্থ্যসেবার জরুরি প্রয়োজনের কথাও জানিয়েছে বিভিন্ন
সাহায্য সংস্থাগুলো।
হিন্দুকুশ পর্বতমালার পাদদেশে থাকা
আফগানিস্তান প্রায়শই ভূমিকম্পে আক্রান্ত হয়। কারণ অঞ্চলটি ইউরেশিয়ান ও ভারতীয় টেকটোনিক
প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত।










