জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ব্যর্থ হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, ‘‌সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যের অভাবে নিরাপত্তা পরিষদ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’ কাতারে দোহা ফোরামে অংশ নিয়ে গতকাল এ মন্তব্য করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

এর আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে গত শুক্রবার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে ভেটো দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে প্রস্তাবটি পাস হয়নি। পরিষদের ১৩ সদস্য প্রস্তাবটি সমর্থন করে। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। আর যুক্তরাজ্য ভোট দানে বিরত থাকে।

দোহায় দেয়া ভাষণে এন্তোনিও গুতেরেস জানান, ভূকৌশলগত বিভক্তির কারণে পরিষদ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। গাজায় চলমান সংঘাত নিয়ে সমাধানে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এতে জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এছাড়া হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে গাজার অর্ধেক মানুষ অনাহারে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর কার্ল স্কাউ বলেন, ‘‌প্রয়োজনীয় সরবরাহের একটি ক্ষুদ্র অংশ উপত্যকায় প্রবেশ করতে পারছে। এতে ১০ জনের মধ্যে নয়জনই প্রতিদিন খেতে পারে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজায় খাদ্য সরবরাহ প্রায় অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিচার্ড হেচট বিবিসিকে বলেন, ‘মৃত্যু ও ‌কোনো সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেদনাদায়ক। তবে আমাদের কাছে বিকল্প নেই। গাজা উপত্যকা পেতে যা যা করা যায়, আমরা তার সবকিছু করছি।’

আইডিএফের চিফ অব স্টাফ হার্জি হালেভি এরই মধ্যে ইসরায়েলি সেনাদের বলেছেন, ‘‌গাজায় আরো চাপ প্রয়োগ করতে হবে। কারণ আমরা সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণ করতে দেখেছি। তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ছে।’

এদিকে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলে প্রায় ১৪ হাজার গোলা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। জরুরি অস্ত্র রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইনে এ অনুমোদন দেয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। গত শনিবার পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইসরায়েলে সরবরাহের জন্য অবিলম্বে ১০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের গোলা রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরায়েলকে এ গোলা সরবরাহ করা হচ্ছে। আঞ্চলিক হুমকি মোকাবেলা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে এগুলো ব্যবহার করবে তেল আবিব।